রাজনৈতিক ও ব্যবসায় সুবিধার জন্য পণ্য বর্জন: হুয়াওয়ে চেয়ারম্যান

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:৫৬

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বহুজাতিক নেটওয়ার্ক ও টেলিকম সরঞ্জাম নির্মাতা হুয়াওয়ে টেকনোলজিস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান কেন হু বলেছেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশ হুয়াওয়েকে ছাড়াই তাদের ফাইভজি নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণ করতে যাচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে কোনো একটি কাজ সম্পন্নের ক্ষেত্রে ভালো কিছু আশা করা যায় না। আমরা বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছি। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, আজ পর্যন্ত কেউ তার কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। কাজেই প্রকৃত তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কারো অভিযোগ আমলে নেওয়ার প্রশ্ন আসে না। যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে আমাদের পণ্য বর্জন করছে, আমরা তার বিরোধিতা করছি। এটা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ও ব্যবসায় সুবিধা নিতে করা হচ্ছে। পণ্য বর্জন বিষয়ে সম্প্রতি মুখ খোলেন হুয়াওয়ে চেয়ারম্যান।

হুয়াওয়ে চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। জাপান ও ফ্রান্স এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হুয়াওয়ের পণ্য নিষিদ্ধ করেনি। বিশ্বব্যাপী হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। হুয়াওয়ে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে আগামী পাঁচ বছরে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করবে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বাড়ানো এবং বিদ্যমান ল্যাব হালনাগাদে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। যে কারণে চীনা টেকনোলজি জায়ান্ট হুয়াওয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে খারাপ সময় পার করছে। পণ্যের নিরাপত্তা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে দেশটি। বলা হচ্ছে, হুয়াওয়ের টেলিকম সরঞ্জাম কিংবা ডিভাইস ব্যবহার করলে তথ্য চুরির আশঙ্কা রয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। হুয়াওয়ের ওপর চীন সরকারের প্রভাব রয়েছে। কাজেই হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম কিংবা ডিভাইস ব্যবহার করলে চীন সরকার মার্কিনদের ওপর গোয়েন্দাগিরির সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের পর একই অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার বাজার হারিয়েছে হুয়াওয়ে।