আধুনিক ঢাকা গড়তে আতিকুলের ৩৮ দফা ইশতেহার

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০৬

ভোটের আমেজ রাজধানী জুড়ে। মহানগরী এখন উত্সবের নগরীতে রূপ নিয়েছে। প্রার্থীদের ব্যস্ত সময় কাটছে প্রচারে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী উন্নয়ন অগ্রযাত্রার নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদের। গতকাল সকালে গুলশানের লেকশোর হোটেলে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। রাজধানী ঢাকাকে ‘সুস্থ, সচল ও আধুনিক’ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ‘ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট’, বায়ুদূষণ রোধে বিদ্যুত্চালিত বাস নামানোসহ ৩৮টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নির্বাচনি ইশতেহারে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকা শহরকে সুন্দর ও উন্নত দেশের রাজধানীর মতো করে গড়ে তুলতে কাজ করবেন।

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস গতকাল দুপুরে সবুজবাগ থানার মায়াকানন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগ করার সময় সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল গোপীবাগে নৌকার প্রচারণা ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়েছে। বিরোধী পক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে এবং আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, এটি কোনো জাতীয় নির্বাচন নয়। এটি ঢাকাবাসীর উন্নয়নের একটি নির্বাচন। এ নির্বাচনকে তারা জাতীয় নির্বাচনের আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করছে। ব্যারিস্টার তাপস বলেন, নির্বাচিত হলে প্রথম ৯০ দিনের মধ্যে মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলো নগরবাসীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াসহ পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে অ্যাকশন প্ল্যান এবং ওয়ার্ক প্ল্যান করে তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেবেন। অনিয়ম বন্ধে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকবে বলেও জানান তিনি। তাপস বলেন, ‘ঢাকাবাসী আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ দিলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে সুন্দর, সুশাসিত, উন্নত এবং ঐতিহ্যের ঢাকা গড়ে তুলতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করব।’ তিনি বলেন, যখন কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন তখন মহানগরীর বিভিন্ন সংস্থা প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে ৩০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। তাপস বলেন, ‘আমরা সচল ঢাকার যে রূপরেখা দিয়েছি সেই রূপরেখার আওতায় গণপরিবহন ঢেলে সাজানো হবে। প্রতিটি সড়ক বিন্যাস করা হবে। সড়কে দ্রুতগতির, ধীরগতির ও ঘোড়ার গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনের জন্য আলাদা লেন করা হবে। এক কথায় সড়ক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসবে।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করে মাদক প্রতিরোধ করব। কেননা মাদক তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদকের ছোবল থেকে তরুণদের রক্ষা করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, চিত্র তারকাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সামনে সিটি নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন আতিকুল ইসলাম। আনিসুল হকের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র হওয়ার পর আট মাস সেই দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিক। সে সময় শুরু করা কাজ ‘এগিয়ে নিতে’ আবারও উত্তরের ভোটারদের সুদৃষ্টি চেয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির উপনির্বাচনে জিতে মেয়র হওয়ার পর সবচেয়ে বড়ো যে চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা আতিকুল ইসলামকে করতে হয়েছে—তা হলো মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। নির্বাচনি ইশতেহারে তিনি বলেন, আবার নির্বাচিত হলে রাজধানীর মানুষকে মশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে সারা বছর মশক নিধন কার্যক্রম চালাবেন তিনি। সে জন্য উত্তর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা ওয়াসা, পার্শ্ববর্তী সিটি করপোরেশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এ কাজ করতে চান তিনি। টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য রাজধানীর অদূরে আমিনবাজারে আরআরএফ (রিসোর্স রিকভারি ফ্যাসিলিটিজ) স্থাপনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বর্জ্য অপসারণ ও জ্বালানিতে রূপান্তরের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে তার নির্বাচনি ইশতেহারে। আতিকুল তার ইশতেহারে বলেন, বায়ুদূষণ রোধে ঢাকার রাস্তায় বিদ্যুত্চালিত বাস নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।

নির্বাচনি ইশতেহারে রাজধানীর গণপরিবহন নিয়ে ব্যাপক পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক পথচারীবান্ধব ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য ফুটপাত নির্মাণ, যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা, নিরাপদ পথচারী পারাপার নিশ্চিত করতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ডিজিটাল পুশ বাটন সিগন্যাল স্থাপন, নগর পরিবহন ব্যবস্থায় ডিজিটাল ই-টিকিটিং ব্যবস্থা প্রবর্তন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা চালু, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের জন্য গণস্থাপনা এবং গণপরিবহন নিশ্চিতকরণ, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পার্কিং ব্যবস্থা নির্মাণ এবং নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্থানে স্বয়ংক্রিয় ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের কথা রয়েছে এর মধ্যে। আবারও মেয়রের চেয়ারে বসার সুযোগ পেলে রাজধানীর জলাশয় অবৈধ দখলমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে তার। আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হলে মিরপুরে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জায়গায় বৃক্ষ ক্লিনিক ও পোষা প্রাণীর ক্লিনিক, আধুনিক জবাইখানা, রাজধানীবাসীর জন্য পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করবেন তিনি। এছাড়া পাড়া উত্সব উদ্যাপন, বস্তিবাসীদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, ঢাকা দক্ষিণ সিটির বর্ধিত এলাকায় নারীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, প্রতিটি স্থাপনায় ব্রেস্ট ফিডিং কক্ষ নির্মাণের কথা রয়েছে নৌকার প্রার্থীর ইশতেহারে। আগের ৮ মাসের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধিকে কঠিন অনুশীলনের সময় বলে উল্লেখ করে আতিকুল ইসলাম বলেন, এবার নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছর ‘টেস্ট’ খেলবেন তিনি। এই ‘টেস্ট খেলার’ অংশ হিসেবে সারা বছর ধরে মশা নিধন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, যানজট নিরসন ও বায়ুদূষণমুক্ত নগর গড়ার পরিকল্পনা আছে তার।