অশউইত্জ মুক্তি বার্ষিকী

গ্যাস চেম্বারে কাজ করতে বাধ্য হওয়া ইহুদির জবানবন্দি

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৩০

আমি শ্মশানে কাজ করতাম। মৃতদেহগুলো গ্যাস চেম্বার থেকে ওভেনে বয়ে নিয়ে যেতাম— বলছিলেন ডারিও গাব্বাই। অশউইত্জ বন্দি শিবিরের সাবেক এ বন্দি বর্ণনা দিচ্ছিলেন কীভাবে ইহুদিদের মৃতদেহগুলো সরিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হতো।

গাব্বাইয়ের বয়স এখন ৯৮ বছর এবং তিনিই সম্ভবত ইউরোপ থেকে ইহুদিদের নির্মূল করার নািস পরিকল্পনার সর্বশেষ প্রত্যক্ষদর্শী। অশউইত্জ বন্দিশিবির থেকে মুক্তির ৭৫তম বার্ষিকীতে—এটি হলোকাস্ট বা ইহুদি নিধনযজ্ঞে সহায়তায় বাধ্য হওয়া বন্দিদের একজনের গল্প।

গাব্বাই বলেন, হত্যায় গতি বাড়াতে নািসরা অশউইত্জ-এর মতো ক্যাম্প তৈরি করে এবং সেখানে একটি বিশেষ ইউনিট তৈরি করে তারা যাকে সন্দারকমান্দো নামে ডাকতো। ষোলটি দেশ থেকে অশউইেজ পাঠানো বন্দিদের সমন্বয়ে এটি গঠন করা হয়েছিল। এটা এমন কিছু যা আমি কখনো ভুলবো না। আমি ভাগ্যবান যে বেঁচে গেছি।

সোভিয়েত বাহিনীর হাতে ১৯৪৫ সালের ২৭ জানুয়ারি অশউইত্জ থেকে মুক্তির পর বেঁচে যাওয়া অনেকে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে সন্দারকমান্দো ইউনিটে ছিল এমন কারো কাছ থেকে শোনা গেছে কমই।

১৯৮০ সালে ইসরাইলভিত্তিক হলোকাস্ট ঐতিহাসিক প্রফেসর জিডিওন গ্রেইফ এই সন্দারকমান্দোর রহস্য উন্মোচনের কাজ শুরু করেন। গাব্বাইয়ের মতো বেঁচে যাওয়া অনেকে মূলত মৃত্যুর কারখানায় কাজ করার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন।

তারা দরজা বন্ধ করত। এরপর জাইক্লোন বি নিক্ষেপ করা হতো। এতে মরতে সময় লাগত ৪/৫ মিনিট। শুধু গ্যাস যেদিক থেকে আসছে সেদিকের লোকজনের লাগত দুই মিনিটের মতো। ক্রিস্টাল পেলেট ফর্মে জাইক্লোন বি ক্যাম্পে দেওয়া হতো, পরে এগুলো বাতাসে মিশে বিষাক্ত গ্যাসে পরিণত হতো এবং মানুষকে মারতে শুরু করত।