কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কম্পিউটারের মাধ্যমে অনুকরণ করার চেষ্টা করা হয়। মূলত মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং চিন্তাশক্তিকে যন্ত্রের মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা হয়। আজকাল শিক্ষা কার্যক্রম থেকে শুরু করে চিকিত্সা বিজ্ঞানের জটিল শাখায়ও দক্ষতার ছাপ রেখে চলেছে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তবে এবার এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দেখা গেল সংবাদ উপস্থাপকের ভূমিকায়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম শিনহুয়ার সংবাদ পাঠের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়েছে বিশ্বের প্রথম ভার্চুয়াল সংবাদ উপস্থাপকের। স্যুট পরে অনেকটা রোবোটিক গলায় সংবাদ পড়ছে এই উপস্থাপক। প্রথম প্রতিবেদন পাঠের শুরুতে এই ভার্চুয়াল উপস্থাপক বলে, ‘হ্যালো, আপনারা দেখছেন ইংরেজি সংবাদ। আমি বেইজিংয়ের একজন এআই সংবাদ উপস্থাপক’। ভার্চুয়াল এই সংবাদ উপস্থাপক তৈরিতে কাজ করেছে চীনা সার্চ ইঞ্জিন সোগোউ।
সংবাদ মাধ্যমটির দাবি, পেশাদার সংবাদ উপস্থাপকদের মতোই স্বাভাবিকভাবে লেখা পড়তে পারবে এই ভার্চুয়াল উপস্থাপক। নিজের পরিচিতি ভিডিও পর্বে এই উপস্থাপক জানায়, আমার ব্যবস্থায় অবিরাম লেখা দেওয়া হলে আমি আপনাকে তা পড়ে শোনাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করবো। সংবাদের সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করবো। ভার্চুয়াল সংবাদ উপস্থাপকের চীনা সংস্করণ ব্যবহূত হয়েছে আলাদা চেহারা। শিনহুয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উপস্থাপক তাদের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক মাধ্যমের চ্যানেলে দিনে ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারবে। একটানা কাজ করলেও কোনো ক্লান্তির ছাপ পড়বে না এই উপস্থাপকের। বারবার মেক আপ বদল কিংবা ব্যক্তিগত কাজের কোনো ঝামেলা না থাকায় এই উপস্থাপক থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ সেবা নিতে পারবে সংবাদ মাধ্যমটি। আর এর মাসিক বেতন নিয়েও ভাবতে হবে না প্রতিষ্ঠানটির। সব মিলিয়ে সংবাদ মাধ্যমটির সংবাদ প্রস্তুতের খরচ আগের থেকে অনেক কমে আসবে। ভার্চুয়াল উপস্থাপকের কণ্ঠ, ঠোঁটের নড়াচড়া এবং অভিব্যক্তি মেলাতে একটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। শিনহুয়ার আসল সংবাদ উপস্থাপকদের থেকেই বিষয়গুলো নকল করা হয়েছে।
এই ভার্চুয়াল সংবাদ উপস্থাপকের আগমনে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো খুশি হলেও এতে চিন্তার ভাঁজ পড়তে পারে আসল সংবাদ উপস্থাপকদের কপালে। একটি টেলিভিশন চ্যানেলে যেখানে কমপক্ষে আট থেকে দশজন সংবাদ উপস্থাপকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতো, সেখানে একজন মাত্র ভার্চুয়াল সংবাদ উপস্থাপকই সবাইকে কর্মহীন করে দিতে পারে।
যদিও চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইবো’তে ভার্চুয়াল সংবাদ উপস্থাপক নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী বলেন, এই ভার্চুয়াল সংবাদ পাঠকদের সংবাদ পড়ার ধরন আসল সংবাদ পাঠকদের মতো নয়। কোথায় থামতে হবে, কোথায় দ্রুত পড়ে যেতে হবে এসব বিষয় নিখুঁতভাবে করতে পারে না ভার্চুয়াল সংবাদ পাঠক। এছাড়া তার কণ্ঠও মানুষকে আকৃষ্ট করে না। অন্য এক ব্যবহারকারী বলেন, এইভাবে ভার্চুয়াল সংবাদ পাঠকের ব্যবহার হতে থাকলে হয়তো কর্মহীন হয়ে পড়বে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ সংবাদ পাঠকরা। -সিএনএন
