জানা-অজানা

কুয়াশা

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৬

 

শীতের সময় কুয়াশা তৈরি হয়। এ সময় তাপমাত্রা কম থাকে এবং মাটিতে থাকা আর্দ্রতা ওপরে উঠে গিয়ে কুয়াশা তৈরি করে। কুয়াশা হলো ভূমির সংস্পর্শে থাকা মেঘমালা। মেঘকেও আংশিকভাবে কুয়াশা বিবেচনা করা যায়। মেঘের যে অংশটুকু মাটির ওপরে বাতাসে ভাসমান থাকে তা কুয়াশা হিসেবে বিবেচিত নয়। তবে মেঘের ভূমির উঁচু অংশের সংস্পর্শে থাকা মেঘকে কুয়াশা বলা হয়। পৃথিবীর সর্বাধিক কুয়াশাচ্ছন্ন স্থান হলো নিউফাউন্ডল্যান্ডের গ্রান্ড ব্যাংকস—যেখানে উত্তর দিক থেকে আসা শীতল লাব্রাডর প্রবাহ ও দক্ষিণ দিক থেকে আসা অপেক্ষাকৃত উষ্ণ গালফ প্রবাহ মিলিত হয়। সর্বাধিক কুয়াশাচ্ছন্ন ভূমি অঞ্চলের মধ্যে আছে পয়েন্ট রেয়েস, ক্যালিফোর্নিয়া। এবন আর্জেন্টিনা, নিউফাউন্ডল্যান্ড ও লাব্রাডর  অঞ্চল বছরের ২০০ দিনই কুয়াশায় ঢাকা থাকে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং চীনেও কুয়াশা তৈরি হয়। কুয়াশার কারণে রাস্তাঘাটে মানুষ, যানবাহন চলাচল করাটা একটা ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। ঘন কুয়াশায় দেখা যায়, গাড়িগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করছে।

মাটির তুলনায় বাতাসে উষ্ণতা এবং আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে যে কুয়াশা তৈরি হয় এবং ভেসে বেড়ায়, তা ভারত থেকে বাতাসের তোড়ে বাংলাদেশে চলে আসে। কুয়াশা তৈরির পেছনে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্য দায়ী। কুয়াশা বরফের একটা অংশ। এটা আমাদের দেশে ছোটো থাকে, অন্যান্য দেশে তাপমাত্রা অনেক কমে যায় বলে সেটা বড়ো আকার ধারণ করে ঝরে পড়ে। এই অবস্থাকে বলে ‘স্নো’। আমাদের দেশে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকে বলে স্নো হয় না, তবে মাঝে মাঝে বৃষ্টির মতো ছোটো ছোটো ফোঁটা হয়ে ঝরে।

কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো ঢুকতে পারে না। তাই তাপমাত্রা কম থাকে এবং শীত অনুভূত হয়। তাছাড়া সূর্যের আলো গাছপালায় পৌঁছতে না পারায় পাতায় সালোক-সংশ্লেষণের পরিমাণ কমে যায়। এতে একদিকে গাছপালা পুষ্টি কম পায় এবং গাছের খাদ্য কম তৈরি হয়। অন্যদিকে একই কারণে অক্সিজেনের উত্পাদনও কমে যায়। শীতে কুয়াশার কারণে রবি শস্যের উত্পাদন কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এবং শিল্প-কারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া বাতাসে মিশতে না দিলে কুয়াশার ঘনত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে যে যা-ই বলুক, কুয়াশার রয়েছে এক অন্যরকম সৌন্দর্য। শীতের কষ্ট এবং রাস্তায় চলাচলে ঝুঁকি থাকলেও কুয়াশার অসাধারণ সৌন্দর্য যেন অজান্তেই মনের ভেতর নাড়া দিয়ে ওঠে।