ইসির সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলের বৈঠক

অগ্নিসন্ত্রাসের সময় যারা জেলে ছিল, তারা ঢাকায়

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩৯

২০১৪-১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাসের সময় যারা জেলে ছিল, তাদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। সোমবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেছেন, তাদের তথ্য রয়েছে ২০১৪-১৫ সালে তখনকার অগ্নিসন্ত্রাসের সময় বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অঞ্চলে যারা অংশ নিয়েছিল, পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় ছাড়া পেয়েছে, বাইরে আছে, তাদের অনেককেই ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে অস্ত্র সজ্জিত হয়ে দলগতভাবে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। সুযোগ মতো পরিস্থিতি এমন সৃষ্টি করতে পারে যাতে নির্বাচনটি বানচাল হয়ে যায়।

আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে বিকাল ৪টায় এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে ১২ সদস্যর প্রতিনিধি দলটি সিইসি ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, গোপীবাগে বিএনপি মেয়র প্রার্থীর প্রচারে হামলার যে অভিযোগ তা পুরোপুরি সাজানো ও পূর্ব-পরিকল্পিত। আমরা এসেছিলাম রবিবারের ঘটনা কমিশনকে অবহিত করতে। তথ্য প্রমাণ নিয়ে এসেছি। পুরো ঘটনাটি একটি সাজানো, পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপি ক্যাডাররা এমনভাবে করেছে তাতে প্রমাণ হয় তারা আগে থেকে তৈরি ছিল।

এইচ টি ইমাম জানান, এ ধরনের ঘটনায় বড়ো ভূমিকা রাখছে জামায়াত শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা। তাদেরকেই আনা হচ্ছে। যে আক্রমণ করা হয়েছে, যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, গুলি পরিচালনা করা হয়েছে। সেগুলোর তথ্য কমিশনকে দিয়েছি। আমাদের অনেকেই আহত হয়েছে, হাসপাতালে রয়েছে। বিএনপি প্রার্থী নিজেই অন্যদের ওপর হাত তুলতে যাচ্ছেন, মারতে যাচ্ছেন,                 আক্রমণমুখী তথ্য দেওয়া হয়েছে। বিএনপি মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন তার বাবার মতো নাটক করে থাকতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এইচ টি ইমাম জানান, আমরা চাইব নির্বাচন সুষ্ঠু হোক। আমরা কী চাইব মারামারি করে নির্বাচন নষ্ট হোক। আমাদের প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত। পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের অনুরোধ ঃ আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি-জামায়াত শিবিরের সশস্ত্র সন্ত্রাসী, অগ্নিসন্ত্রাসীদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক। তাদেরকে গ্রেফতার করা হোক। কমিশনের কাছে এমন আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ঢাকাবাসীর জীবনমান রক্ষার জন্য. তাদের নিরাপত্তার জন্য এ নির্বাচনকে উত্সবমুখর করার জন্য, সবার অংশগ্রহণমূলক করার পরিবেশ তৈরির অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি জানান, ১৯৯৪ সালে মো. হানিফ ঢাকার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সাত নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছিল। এটা তাদের পুরোনো চরিত্র।

‘আচরণবিধি মানছি আমরা’ : এইচ টি ইমাম বলেন, আমরাই আচরণবিধি মেনে চলছি। এমপি মন্ত্রীরা যাচ্ছেন না। রিটার্নিং অফিসার দেখভাল করছেন। মঙ্গলবার থেকে নির্বাহী হাকিম বাড়বে। আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি জানান, গোপীবাগের ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে এফআইআর দেওয়া হয়েছে, কমিশন পুলিশকে এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলবে।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, আইনবিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবির কাওসার, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।