ফুলের রাজ্যে

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৪৬

কুয়াশার চাদরে ঢাকা শীতের সকালের প্রথম প্রহর, কাছে কোথাও শোনা যাচ্ছে অতিথি পাখির কলরব, তার সাথে ভেসে আসছে মোহনীয় সব ফুলের সৌরভ। বলছি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্গলোকের শীতের সকালের এমনই একটি গল্পের কথা।

হালকা শীত উপেক্ষা করে হাঁটতে হাঁটতে হয়তো নিজের অজান্তেই প্রতিটি শিক্ষার্থী হারিয়ে যাবে মোহনীয় ফুলের রাজ্য ১৭৫ একরের এ চিরযৌবনা ক্যাম্পাসে। রাস্তার দুই পাশে বাহারী সব ফুল আর তার থেকে ছড়ানো মাদকতার সৌরভ সব মিলিয়ে এ যেন কোনো এক নৈসর্গিক পুষ্প উদ্যান।

রাস্তার দুইপাশ, শহিদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, প্রশাসনিক ভবন, প্রকৌশল অফিস, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, চিকিত্সা কেন্দ্র কিংবা হল বা অনুষদ সর্বত্রই চোখে পড়ে ফুলের এ প্রাচুর্য। মনে হয় শিল্পী যেন তার নিজস্ব শৈল্পিকতায় আপন মনে প্রকৃতির পটে এঁকেছে ১৭৫ একরের ক্যানভাসে বিশাল এক চিত্র। যার অলঙ্করণে ব্যবহার করেছেন গোলাপ, গাঁদা, রঙ্গন, একজিরা, চন্দন মল্লিকা, কসমচ, টগর, জবা, ঝাউ, হাসনাহেনা, বেলি, পাতাবাহার, টাইম ফুল, ঢালিয়া, ফায়ার বল, জিনিয়া, নয়ন তারা বা পপিকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীদের কাছে বিনোদনের বড়ো খোরাক এ ফুলের বাগানগুলো। বলতে গেলে মানসিক প্রশান্তির একটি বড়ো জায়গাও বটে। ব্যস্ত দিনের ক্লাস, পরীক্ষার ফাঁকে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সতেজতায় পুনরায় উদ্যমী করে তুলতে ফুলের অকৃত্রিম এমন সৌন্দর্যের বিকল্প অন্যটি আর নেই। বিকেল বেলা লেকের পাশে হাঁটতে হাঁটতে মনে হতেই পারে বিচরণ করছি বিশাল কোনো পুষ্প কাননে। একদিকে ঢেউখেলানো স্নিগ্ধ জলরাশি আর রংবেরঙের ফুলের সারি অন্যদিকে দিগন্তে হেলে পড়া দিনের শেষ সূর্য। সবমিলিয়ে বলাই যায় এ যেন কবির চোখে দেখা সেই কন্যা সুন্দর আলোর মাহেন্দ্রক্ষণ। এমন মুহূর্তকে স্মরণীয় করতে কবি যে তার প্রিয়তমাকে উত্সর্গ করে লিখে ফেলতে পারেন কোনো একটি কবিতার কয়েকটি চরণ তাও কিন্তু অকল্পনীয় নয়।

নবীনদের আগমনে শুভ্র ও কোমলতার প্রতিক হিসেবেই দৃষ্টিনন্দন ফুলের রাজ্যে এ অসংখ্য পুষ্পস্ফুটন। তাদের বরণ করিতেই হয়তো ইবি প্রকৃতি সেজেছে তার আপন মহিমায়।