জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

চৌদ্দ বছর পর সমাবর্তন

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৪৮

সকাল থেকেই ক্যাম্পাস জুড়ে মাথায় টুপি ও কালো গাউন পরে উচ্ছ্বাস করছে একদল তরুণেরা। তরুণরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, ভাস্কর্য চত্বর, কাঁঠালতলাসহ বিভিন্ন অনুষদের চত্বরে ছোটাছুটি করছেন। অনেকে প্রিয় বন্ধু, সহপাঠীকে জড়িয়ে ধরছেন। ছোটো ও বড়ো ভাইবোনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন কেউ কেউ। সঙ্গে সঙ্গে ফ্রেমবন্দি করে রাখছেন আনন্দঘন মুহূর্তগুলো।

সমাবর্তন উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় নতুন রূপে। ব্যানার, ফেস্টুনে সেজেছে ক্যাম্পাস। রাতে বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, প্রধান সড়ক, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠসহ সব অবকাঠামোয় আলোকসজ্জা করা হয়। সমাবর্তনে আসা শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বিভিন্ন সড়কে নির্মাণ করা হয় তোরণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের বিভাগসহ স্মৃতিবিজড়িত নানা স্থানে সেলফি তোলেন কৃতী শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসসহ পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সব জায়গায় গল্প-আড্ডায় বসেন। পাশাপাশি সমাবর্তনের ক্যাপ আকাশে ছুড়ে দিয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতেছেন গ্রাজুয়েটরা।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম রনি বলেন, সমাবর্তন একজন শিক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন। এটা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই জানতাম এবং মানতাম। তবে মনে ভেতর একটা কষ্ট সব সময় উকি দিত কারণ আমরা সমাবর্তন পাব কি না তা নিয়ে একটা সংশয় ও দ্বিধা বরাবরই ছিল। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার জীবনেও সমাবর্তনের মাহেন্দ্রক্ষণটি আশায় আমি নিজেকে সত্যিই খুব ভাগ্যবান মনে করছি। সমাবর্তনের অনুভূতিটা কোনোভাবেই ভাষায় প্রকাশ করার   মতো না।

সমাবর্তনের দিনটি চলে গেছে কিন্তু এই সুখের স্মৃতিটুকু জীবনের চলার পথে নানা দুঃখ-কষ্টের মধ্যে একটু হলেও সুখের অনুভূতির সুবাতাস হয়ে ধরা দিবে।

তাইজুল ইসলাম টিটু বলেন, বিয়ে ইচ্ছে করলে অনেকগুলো করা যায়। কিন্তু জীবনে সমাবর্তন একবারই আসে। যা চাইলেই দুইটা পাওয়া যাবে না। তাই এটাকে আমরা স্মৃতিময় করে রাখার জন্য আনন্দ করছি।

ক্যাম্পাসে গ্রাজুয়েটদের আনন্দ, উল্লাস আর সেলফি তোলার মহাযজ্ঞ চলে সন্ধ্যা অবধি। কিন্তু এরপর আনন্দ আরো বাড়িয়ে দিতে শুরু হয় কনসার্ট। এতে অংশ নেন সংগীত    বিভাগের শিক্ষার্থীরা ও শিল্পী বাপ্পা মজুমদার। তারপর ফুরায় আনন্দযজ্ঞের সমাবর্তন। কিন্তু রেশ রয়ে যায় মনে।

প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর ১১ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তনের আয়োজন করেছে রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে ৩৬টি বিভাগের ১৮ হাজার ৩১৭ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এই নিয়ে শেষ হলো—উজ্জ্বল জমকালো এক সমাবর্তন।