প্রেমিকের সহযোগিতায় মাকে হত্যা করেছে মেয়েটি!

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ০০:২৪

মেয়েটি নিজের মাকে প্রেমিক ও তার সহযোগিদের দিয়ে  হত্যা করে। মার উপর ছিল তার একটাই ক্ষোভ- পছন্দের ছেলের সঙ্গে তার বিয়েতে রাজী না হওয়া। ঘটনাটি ঘটে গত ২২ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ শহরের দক্ষিণ সেওতা এলাকায়। তবে লোমহর্ষক এই ঘটনা ঘটিয়ে কেউ পার পায়নি। পুলিশ ঠিকই তাদের প্রায় সকলকে গ্রেফতার করেছে।

মা মাহমুদা বেগমকে (৪৫) হত্যার পরিকল্পনাকারী মেয়ে জুলেখা আক্তার জ্যোতি (১৯), হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী জ্যোতির প্রেমিক নাইম ও তার এক সহযোগিকে কয়েকদিনের মধ্যেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গত সোমবার বিকেলে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদের কাছে ১৬৪-ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় গ্রেফতারকৃতরা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মানিকগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক শামীম আল মামুন জানান, লেপচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে মাহমুদা বেগমকে হত্যার পর জ্যোতির হাত-পা ও মুখ বেঁধে স্বর্ণালংকার লুট করে ডাকাতির নাটক সাজায় নাইম। তবে জ্যোতিকে মানিকগঞ্জ থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে সে। শুক্রবার বিকেলে জ্যোতির বাবা জহিরুল ইসলাম আলিয়ার বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় নিজের মেয়ে ও তার প্রেমিক নাইম ইসলাম এবং নাইমের সহযোগী রাকিবসহ আরও দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে জ্যোতিকে গ্রেফতার দেখিয়ে মানিকগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে জুলেখার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতেই তার বন্ধু কেরানীগঞ্জের আরাকুল গ্রামের নাইম ইসলাম (২৫) এবং তার সহযোগী একই গ্রামের রাকিবকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়। বাকি দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নির্মাণ শ্রমিক নাইমের সঙ্গে ৮ মাস আগে জ্যোতির পরিচয় হয় ফেসবুক-ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে এবং এক পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জ্যোতি নাইমকে বিয়ে করতে চাইলে তার মা রাজি হননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জ্যোতি তিন মাস আগে তার মাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতে নাইম ও তার ৪ সহযোগী জ্যোতির ঘরে প্রবেশ করে। রাতে কয়েক দফা চেষ্টা করেও মাহমুদাকে হত্যার সুযোগ পায়নি তারা। সকাল ৭টার দিতে জ্যোতির বাবা ফজরের নামাজ শেষে প্রাতভ্রমণে বের হলে তারা মাহমুদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

জ্যোতির বাবা জহিরুল ইসলাম আলিয়ার জানান, তিনি পরিবার নিয়ে নিজস্ব পাঁচতলা ভবনের দোতলায় বসবাস করেন। তিনি  ১০ বছর কাতারে প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে এসে পোল্ট্রি ব্যবসা করছেন। বছর তিনেক আগে মেয়ে জ্যোতিকে বিয়ে দেন ঢাকার ধামরাই এলাকার মারুফ সরকারের সঙ্গে।

তিন মাস আগে মেয়ের বিচ্ছেদ ঘটলে সে বাবার বাড়িতে চলে আসে। একমাত্র ছেলে মাজহারুল ইসলাম তুহিন (১৫) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা এলাকায় একটি আবাসকি মাদ্রাসায় আবাসিকে থেকে পড়াশোনা করে।