ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘এত পরিশ্রম করি, এত মেধা খাটাই কিসের জন্য? ভোটারের ভোট দিতে পারা নিশ্চিত করার জন্য।’ আগে জাল ভোটের সুযোগ ছিল স্বীকার করে তিনি বলেন, তখন জাল ভোটের পাশাপাশি ব্যালট ছিনতাইয়েরও সুযোগ ছিল, কিন্তু ইভিএমে সেটা থাকছে না।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বেইলি রোডে সিদ্ধেশ্বরী কলেজে ইভিএমে ভোটদান প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময়ে দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি বলেন, সবগুলো কেন্দ্রে ডেমোনেসট্রেশন (প্রদর্শন) হচ্ছে যাতে জনগণ; যারা জানতে চায়, বুঝতে চায় তারা যাতে বুঝতে পারে ভালোই তো হচ্ছে। ইভিএমের যৌক্তিকতা অনেক বেশি দাবি করে হুদা বলেন, ইভিএমের মাধ্যমেই ভোটার নিজের ভোট দিতে পারবে। ইভিএমের মাধ্যমেই সেটা সম্ভব।
অনেকেরই ফিঙ্গার প্রিন্ট নিচ্ছে না, এর কারণ কী—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এর কারণ হতে পারে তিনি এই কেন্দ্রের ভোটার না অথবা পাশের বুথের ভোটার।’ এতে করে সময় নষ্ট হচ্ছে বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘সবার হবে না এটা ; হয়তো দু-একজনের হতে পারে। কারো হাতের রেখা বিলীন হয়ে গেছে বা ডিসপ্লেস্ড হয়ে গেছে, এরকমও হতে পারে দুই একজনের।’
বিভিন্ন জায়গায় মারামারি হচ্ছে বিষয়টি সামনে আনলে সিইসি বলেন, ‘যারা মারামারি করে মানে দুই দলেরই, এটাতো ক্রিমিনাল অফেন্সের ধারায় তারা (ভুক্তভোগীরা) কেস করবে। কেস করলে তারা (পুলিশ) ব্যবস্থা নেবে। এটা তো আমাদের তাত্ক্ষণিক কিছু করার নেই।’
সম্প্রতি গোপীবাগের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের একজন সদস্য মোবাইলে নিজেদের পার্টির অবস্থান জানাচ্ছিলেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ কি কোনো দলকে আমাদের পার্টি বলতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘পুলিশের সাথে যে লোকজন থাকে, তাকে পার্টি বলে। পুলিশের পার্টি মানে পুলিশের সাথিরা। তিনি (ঐ পুলিশ সদস্য) পুলিশের পার্টি বুঝিয়েছেন, দলের পার্টি না।’
