নির্ভয়া হত্যাকাণ্ড: সেই ধর্ষককে ফাঁসিতে ঝুলতেই হচ্ছে

আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৪:১৩

কারাগারে নির্যাতন ফাঁসি দণ্ড মওকুফের কারণ হতে পারেনা । ভারতের রাষ্ট্রপতিও তাড়াহুড়ো করে কোন সিদ্ধান্ত নেননি। বুধবার নির্ভয়া ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি মুকেশ সিংহের আবেদনের জবাবে এমনটি বলেছেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে মুকেশের জন্য ফাঁসি এড়ানোর কোনও পথই আর খোলা রইল না। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুকেশের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে বিচারপতি আর ভানুমতী, বিচারপতি অশোকভূষণ, বিচারপতি এস বোপানার বেঞ্চ। বিচারপতিদের তরফ থেকে জানানো হয়, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কোনও তাড়াহুড়ো করা হয়নি। রাষ্ট্রপতি সমস্ত নথি খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এছাড়া জেলে যৌন নির্যাতনের বিষয়য়টিও আমলে নেয়নি ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। 

এর আগে ফাঁসির রায় প্রকাশের পর মুকেশ সিং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে আবেদন করলে সে আবেদন নাকচ করে দেন রাম নাথ কোবিন্দ। রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে মুকেশ। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মুকেশের আইনজীবী বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে মুকেশের ডিএনএ নমুনা উপস্থাপন করা হয়নি। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ওই আইনজীবী। এছাড়া তিহাড় জেলে মুকেশকে যৌন নির্যাতন ও মারধর করার অভিযোগও আনা হয়। এসব কারণ দেখিয়ে মুকেশের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ স্থগিত করার আর্জি জানিয়েছিলেন আইনজীবী অঞ্জনা প্রকাশ।

 উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দক্ষিণ দিল্লিতে বাসের মধ্যে প্যারাম্যাডিক শিক্ষার্থী নির্ভয়াকে ছয়জন মিলে ধর্ষণ করে। পরে তাকে বাস থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়। এতে গুরুতর আহত হওয়া নির্ভয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এই ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো ভারত। এই ঘটনায় ছয় জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। তাদের এক জন মারা যাওয়ায় তাকে মামলার বাইরে রাখা হয় এবং আরেকজন ওই সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। বাকি চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর হবার কথা রয়েছে।

ইত্তেফাক/এআর