১৯৫৫ সালে নির্মাণ হওয়ার পর আর কোনো সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এ ভবনটিতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিত্সাসেবা কার্যক্রম। তবে যে কোনো সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ধসে পড়ে বড়ো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে শিলক ও কোদালা ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। তবে সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। অন্যদিকে হাসপাতালটির পাশ ঘেঁষেই চলছে গ্রিল ওয়ার্কশপের দোকান।
স্থানীয় মাহমুদুল হাসান বাদশা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এ এলাকা থেকে অনেক দূরে। কর্ণফুলী পার হয়ে কিংবা গোডাউন ব্রিজ দিয়ে সড়কপথে যেতেও দীর্ঘ পথ পেরুতে হয়। এ কারণে এখানকার গ্রামের মানুষ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রেই চিকিত্সা নিতে আসেন। এলাকার সমাজসেবক ও রাজনীতিক লিয়াকত আলী জানান, শিলক ও কোদালা ইউনিয়নের ৪০ হাজার মানুষের জন্য এই হাসপাতালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি হাসপাতালটি দ্রুত মেরামত করা হউক ।শিলক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নির্মাণের পর থেকে এটি আর কোনো সংস্কার না করায় দিন দিন তা আরো খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। যে কোনো সময় ভবনটি ধসে গিয়ে বড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেডের শিলক ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। অনেকটা গ্রিল ওয়ার্কশপের দোকানেরই দখলে। দেওয়াল থেকে পলেস্তরা খসে পড়ছে। সবগুলো দরজা-জানালা ভাঙা। মরিচা ধরে চালের টিন ভেঙে পড়ছে। কোথাও কোথাও ফুটো হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি পড়ে। এ সময় চিকিত্সা-সরঞ্জামসহ কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যায়। দেওয়ালে শ্যাওলা পড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। উপস্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের চিকিত্সক উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তা মাসকুরা বেগম বলেন, জরাজীর্ণ ভবনের কথা আমি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি। কিন্তু সাড়া পাচ্ছি না। এখানে বিদ্যুতের সংযোগ ও শৌচাগারও নেই। এরপরও চিকিত্সা নিতে রোগীরা প্রতিদিন ভিড় করে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজীব পালিত বলেন, শিলকসহ উপজেলার সবগুলো উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কারের বিষয়ে ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করি দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
