খুলনায় আওয়ামী লীগ বিএনপির অস্তিত্বের লড়াই

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনই ধরে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অপর দিকে, দীর্ঘ ১০ বছর পর নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে হারানো পাঁচটিসহ ছয়টি আসনেই জয়লাভ করতে মরিয়া আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। বর্তমানে আসন ধরে রাখা আর পুনরুদ্ধার এ নিয়েই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা মাঠে-ময়দানে তত্পর। নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের টেনশন ততই বাড়ছে।

জাতীয় রাজনীতিতে দেশের অন্যতম শিল্পাঞ্চল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র বলে খ্যাত খুলনার গুরুত্ব ব্যাপক। ইতিপূর্বে এ জেলা থেকে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের দুই শীর্ষ নেত্রী অংশ নিয়ে ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এবারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভোটের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা অস্তিত্বের লড়াইয়ে নেমেছেন। খুলনা-৩ ও ৫ আসনে হ্যাটট্রিক জয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন মহাজোট প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি এবং মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। একই সঙ্গে খুলনা-২ আসনে দলের নতুন প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল। এই আসনে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মহানগর বিএনপি সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ ছাড়া খুলনা-৩ ও ৪ আসনে বিএনপির তরুণ নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল ও আজিজুল বারী হেলাল নির্বাচনে চমক দেখানোর অপেক্ষায় রয়েছেন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে খুলনা জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই জয়লাভ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। শুধুমাত্র খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে জয় পায় বিএনপির প্রার্থী। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে বিপর্যয় ঘটে বিএনপির। ওই নির্বাচনে শুধুমাত্র খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনটি পায় আওয়ামী লীগ। বাকি পাঁচটি আসনেই জয়লাভ করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন তত্কালীন চারদলীয় জোট। এরপর ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনে হারানো পাঁচটি আসনই পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয় আওয়ামী লীগ। এই নির্বাচনে বরাবরের মতো খুলনা-২ আসনটি অধরায় থেকে যায় আওয়ামী লীগের। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে খুলনা জেলার ছয়টি আসনই আওয়ামী লীগের করায়ত্ত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা অংশ না নেওয়ায় ওই ছয়টি আসনে জয়লাভ করতে কষ্ট করতে হয়নি আওয়ামী লীগের। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছর পর বিএনপির নির্বাচনে আসায় এবার খুলনা মহানগরীসহ জেলার ছয়টি আসনের ভোটের চিত্র পাল্টে গেছে। এর ওপর দুটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর দুইজন প্রার্থী বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করায় আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোটের মাঠে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছে।

অপর দিকে, আসন ছয়টি ধরে রাখতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও বসে নেই। এই নির্বাচনকে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে মাঠে নেমেছেন। ফলে ভোটের মাঠ অনেকটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগের নৌকা আর বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জয়ী করতে দুই শিবিরের নেতাকর্মীরা এখন মরিয়া।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনার জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পরাজয় হলে তা হবে নক্ষত্রের পতন ও বিএনপির দুর্গে বড় ধরনের বিপর্যয়। একইভাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল জিতলে তা শুধু চমকই নয়, খুলনার রাজনীতিতে ঘটবে নেতৃত্বের নব উত্থান।