সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডের পাশে সড়ক ও জনপদের (সওজ) জমি থেকে অবৈধ বাজার উচ্ছেদের মাত্র চার দিনের মাথায় ফের সেখানে বাজার বসিয়ে প্রতিদিন ভাড়ার নামে চাঁদা তুলছে একটি চক্র। চাঁদার পরিমাণ ৪০ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদাবাজরা স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে এ চাঁদা আদায় করছে। এ ব্যাপারে সাভার পৌর এলাকার টিয়াবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন—সম্প্রতি সওজর পক্ষ থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই উচ্ছেদকৃত ঐ বাজারটি পুনরায় একই স্থানে স্থানীয় প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা তুলছে একটি চক্র। চাঁদাবাজরা বাজারকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসাও চালাচ্ছে নির্বিঘ্নে। সরকারি জমি রক্ষার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। কিন্তু সওজর ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক উচ্ছেদকৃত সরকারি জমিতে উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে এ অবৈধ বাজার ফের গড়ে উঠেছে তা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন এলাকাবাসী।
সওজ কর্তৃপক্ষ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক আট লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিজয় দিবসের আগে রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। অভিযানে কয়েকশ বহুতল ভবনও ভাঙা পড়ে। অভিযানের অংশ হিসেবে সাভারের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডের পূর্বপাশে বসানো অবৈধ কাঁচাবাজারও উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু উচ্ছেদের তিন/চার দিন পরই বহিরাগত কতিপয় চাঁদাবাজ প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে নতুন করে টিন দিয়ে ১৫টি ঘর নির্মাণ করে মুদি ও মুরগি ব্যবসায়ীদের ভাড়া দিয়েছে। এছাড়া বসানো হয়েছে আরো ৫০টি অস্থায়ী দোকান। দোকান ভেদে প্রতি দোকান থেকে প্রতিদিন ৬০০ টাকা, ৩০০ টাকা এবং ২০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া ফুটপাতের ভাসমান দোকান থেকে প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে ১০০ টাকা হারে চাঁদা। প্রতিদিন মোট চাঁদা আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ হাজার টাকা। ঐ টাকা বিকালে চার চাঁদাবাজ নিজেদের মধ্যে এবং বাকি কিছু অংশ প্রশাসনের নামে ভাগ করছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন বখাটে দোকানগুলো থেকে এ চাঁদা তোলে। চাঁদার টাকা নিশ্চিত করতে ঐ এলাকায় সারাক্ষণ মহড়া দেয় একদল চিহ্নিত বখাটে। এহেন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সাভারের সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, রাস্তার পাশে বাজার বসানোর কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে মুরগির দোকানগুলোর কারণে দুর্গন্ধে ঐ এলাকায় টেকা দায় হয়ে পড়েছে। রাস্তা ঘেঁষে বাজার বসানোর কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ জানান, উচ্ছেদকৃত স্থানে ফের অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বাজার খুব শিগগিরই ভেঙে দেওয়া হবে।
