বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার নামে একটি এনজিও’র কর্মকর্তারা গ্রাহকদের প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিপাকে পড়েছেন ওই এনজিওতে সঞ্চয় রাখা কমপক্ষে ৭০ জন গ্রাহক। ঋণ দেওয়ার কথা বলে মাত্র তিনদিনেই আমানত সংগ্রহ করে গায়েব হয় এনজিওটির কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার নামে একটি এনজিও ধুনট উপজেলার হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার ঠিকানা দিয়ে ৩ দিন আগে থেকে কার্যক্রম শুরু করে। এলাকায় ঋণ দেওয়ার কথা বলে হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রুহুল আমিন লিটনের নির্মাণাধীন ভবনের একটি কক্ষ ভাড়া নেওয়ার কথা বলে সেখানে চেয়ার টেবিল রাখেন।
ধুনট উপজেলার মাটিকোড়া, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, পৌর এলাকার ভরনশাহী, পারধুনটসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে সাধারণ ঋণ, গাভী ক্রয়, বিভিন্ন যন্ত্র ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিনতে ঋণ দেওয়ার কথা বলে ওই এনজিও কর্মকর্তারা। একই কৌশলে তারা এলাকার প্রায় তিনশ জনকে সদস্য করে।
এরমধ্যে ৭০ জন গ্রাহক এক লাখ টাকা পাওয়ার আশায় ১০ হাজার, দুই লাখ টাকার জন্য ২০ হাজার টাকা করে ওই এনজিও কর্মকর্তাদের কাছে সঞ্চয় হিসেবে জমা দেন। বৃহস্পতিবার গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ বিতরণের কথা ছিল। এ অবস্থায় গ্রাহকদের কিছু না বলেই বুধবার বিকেলে এনজিও কর্মকর্তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: আলু ক্ষেতে মিলল নিখোঁজ কন্যা শিশুর গলাকাটা লাশ
উপজেলা মাটিকোড়া গ্রামের মুদি দোকানদার গোলাম হোসেন জানান, ওই সংস্থা থেকে বৃহস্পতিবার তাকে দুই লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। সংস্থাটিতে সঞ্চয় হিসাবে তিনি ২০ হাজার টাকা জমা দেন।
এনজিওটির গ্রাহক শাহাদৎ হোসেন, তাহের আলী, সাইফুল ইসলাম, শাহ আলম, রেফাজ উদ্দিন ও আব্দুল মোমিন জানান, বুধবার বিকেল থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ওই সংস্থার নামে ব্যবহৃত নাম্বারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে এনজিও কার্যালয়ের ভবন মালিক রুহুল আমিন লিটন বলেন, আমার ভবনের নীচতলা ৫ লাখ টাকা জামানতসহ মাসে ৫ হাজার টাকা করে ভাড়া প্রদানের অলিখিত চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই এনজিওর কর্মকর্তারা আর যোগাযোগ করেনি এবং তাদের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে। ঋণ দেওয়ার কথা বলে এলাকার অনেক গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে কর্মকর্তারা।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ঘটনার কথা শুনেছি। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসি

