মানুষের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহের ধারাকে মোটামুটি তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়—শৈশব, যৌবন ও বার্ধক্য। এই তিন কালের মধ্যে সব বিবেচনায় যৌবনকাল হলো শ্রেষ্ঠ সময়। যৌবনকালকে মূল্যবান সম্পদ আখ্যা দিয়ে রাসুলুল্লাহ (স) তা মূল্যায়ন করার তাগিদ দিয়েছেন। কেননা, এ সময় সম্পর্কে পরকালে আল্লাহর কাছে বেশি জবাবদিহি করতে হবে। তিরমিজি শরিফের এক বর্ণনায় সাহাবি আমর ইবনু মায়মুন আল আওদি (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘তোমরা পাঁচটি বস্তুর পূর্বে পাঁচটি বস্তুকে মূল্যবান মনে করো—১. বার্ধক্য আসার পূর্বে যৌবনকে, ২. পীড়িত হওয়ার পূর্বে সুস্বাস্থ্যকে, ৩. দারিদ্র্য আসার পূর্বে সচ্ছলতাকে, ৪. ব্যস্ততার পূর্বে অবসর সময়কে এবং ৫. মৃত্যুর পূর্বে জীবনকে। আল্লাহ প্রদত্ত যৌবনের এই মহামূল্যবান সময়কে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী পরিচালনা না করলে বান্দাকে কড়ায়-গন্ডায় তার হিসাব দিতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (স) তরুণ যুবকদের প্রথম থেকেই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মর্যাদা দিয়েছেন, যাতে তারা সমগ্র পৃথিবীতে ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করতে পারেন। এর জন্য রাসুলুল্লাহ (স) তাদের নীতি-নৈতিকতা ও উন্নত চরিত্র গঠন এবং জাতির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গড়ে তুলেছিলেন। আবার তিনি তাদের এই বয়সে বেশি বেশি আমল ও ইবাদত করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। বুখারির এক বর্ণনায় এসেছে, নবি করিম (স) বলেন, ‘যেদিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তার আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন। তার মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণির ব্যক্তি হচ্ছে সেই যুবক, যার জীবন গড়ে উঠেছে প্রভুর ইবাদতের মাধ্যমে।’
ইসলামের শুরুর সময়ে মক্কায় হযরত আরকাম (রা)-এর বাড়ি থেকে রাসুলুল্লাহ (স) ইসলামি দাওয়াতের কাজ পরিচালনা করতেন। অন্যদের পাশাপাশি যুবকেরাও সেই দাওয়াতকে মক্কা ও এর উপকণ্ঠে ছড়িয়ে দিতেন। আর রাসুল (স)-এর হিযরতের সময় যুবক আলী (রা)-এর ভূমিকা ছিল অকল্পনীয়। নবিজি তার সব আমানত হযরত আলী (রা)-এর কাছে ন্যস্ত করে হিযরত করেছিলেন।
নবিজির ইন্তেকালের পর খোলাফায়ে রাশেদিন যুবকদের বেশি বেশি গুরুত্ব দিতেন। হযরত আবু বকর (রা) যখন কুরআন সংকলনের ইচ্ছা করলেন, তখন তরুণ সাহাবি হযরত যাইদ ইবনে সাবিত (রা)-এর কাঁধে এই মহান দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে আমরা তরুণদের এজাতীয় ভূমিকা অহরহ দেখতে পাই।
লেখক : প্রবন্ধকার ও প্রধান উপদেষ্টা, মাহমুদনগর মদিনাতুল উলূম হামিদীয়া মাদ্রাসা, সুনামগঞ্জ
