ইসির সঙ্গে বড়ো দুই দলের পৃথক বৈঠক

বিদেশি কেউ যেন মাতুব্বরি না করে :এইচ টি ইমাম নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনে জয় চায় আওয়ামী লীগ :খসরু

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩৮

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে কোনো বিদেশি কেউ যেন মাতব্বরি না করেন সেদিকে নজর রাখতে নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, বিশেষ দেশের কেউ যেন এখানে মাতব্বরি না করেন। অন্যান্য দেশে এমন কোনো সুযোগ নেই। অন্য দেশে তাদের অনেক বিধিনিষেধ থাকে। অনেক নিয়মকানুন মানতে হয়। বিভিন্ন সময়ে অনেকেই অনেক কথা বলে ফেলেন, যাতে মনে হয় আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর কটাক্ষ করে ফেলেন। বাংলাদেশ আগের বাংলাদেশ নেই। আজকের বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুসংহত। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠক শেষে এইচটি ইমাম বলেন, নির্বাচনের সার্বিক অবস্থা ভালো। আমাদের সহযোগিতার জন্য সেটা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে কিছু কথা বলেছি। বিদেশি যেসব ডিপ্লোম্যাটদের ব্যাপারে যে নিয়মকানুন সেটি দেশীয়, তাদের যে কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের ব্যাপারে প্রযোজ্য হতে পারে না। কারণ তারা তো আমাদের দেশীয় মানুষ। তাদের বেলায় আইনকানুন যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই যেন মেনে চলা হয়। বিশেষ দেশের ‘মাতব্বরি’ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে কোনো একটি দেশের অ্যাম্বাসেডর ক্যামেরা নিয়ে পোলিং বুথে ঢুকে গিয়েছিলেন।

কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার অধিকার বিএনপিকে কে দিয়েছে?

বিএনপি নেতারা ভোটকেন্দ্রে পাহারা বসানোর কথা বলছেন উল্লেখ করে তাদের কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার অধিকার কে দিয়েছে—এমন প্রশ্ন তোলেন এইচ টি ইমাম।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, ছাত্রলীগ যেন কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়—এ বিষয়ে জানতে চাইলে এইচটি ইমাম বলেন, এ কথা মোটেই ঠিক নয় বরং আমি বলব বিএনপি নেতারা বলছেন তারা কেন্দ্রে পাহারা বসাবেন। কে তাদের এই অধিকার দিল। এটা কি আইনসিদ্ধ, কোনো দলই এটা করতে পারবে না।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সিইসি কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার,  মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহদাত হোসেন চৌধুরীসহ ইসির ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্মসম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান গোলাপ, দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছারসহ অন্যরা।

নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনে জয় চায় আওয়ামী লীগ :খসরু

এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ জয় পেতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি শুধু জিতবে না, বহু ভোটে জিতবে। তাই ভোট নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। এখনো আশায় আছি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন চাইলে পরিবর্তন সম্ভব। চাইলেই জনগণের ভোট ফিরিয়ে দিতে পারেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন। বিকালে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিএনপির তিন সদস্য প্রতিনিধিদল।

তিনি বলেন, বিগত দিনে যে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি আজ পর্যন্ত যে ভায়োলেশন হয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে যেগুলো ছোটোখাটো লঙ্ঘন নয়, মেজর যে লঙ্ঘন হয়েছে বারবার বলেছি সমাধান হয়নি। সোহরাওয়ার্দীতে আওয়ামী লীগের জনসভা হচ্ছে। এটা নির্বাচনের বিধির সরাসরি লঙ্ঘন। আমির খসরু মাহমুদ বলেন, নির্বাচন পর্যন্ত দৃশ্যমান অপরাধ না হলে গ্রেফতার হবে না বলে জানিয়েছিল, কিন্তু গ্রেফতার চলছে।

এটা ক্লিয়ারলি ভায়োলেশন : খসরু বলেন, নির্বাচনের যে পরিবেশের কথা বলে আসছি, আওয়ামী লীগের দক্ষিণের প্রার্থীর একজন এমপি, সিনিয়র নেতা সেখানে বসে ছিলেন, এটা ক্লিয়ারলি ভায়োলেশন। আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি নাকি বলেছেন বিএনপি নাকি বাইরে থেকে লোক এনে কেন্দ্র দখল করবে, দেশের একটি মানুষও কি তা বিশ্বাস করবে, উনি নিজে কি বিশ্বাস করবেন।

ভোটের পরিস্থিতি কি ইসির নিয়ন্ত্রণে আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসি সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশের নাগরিকের ভোট নিশ্চিত ও সুরক্ষার জন্য। কিন্তু এখন ইসি হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের ভোট সুরক্ষার জন্য।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সিইসি কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) শাহদাত হোসেন চৌধুরীসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি ও যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উপস্থিত ছিলেন।