পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা
বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনের আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন দল ও জোটের প্রার্থীরা গণসংযোগ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রার্থীরা উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ আর ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়।
এ আসনের ভোটারদের মতে, মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন আর বিএনপি প্রার্থী ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আইনজ্ঞ এ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেনের মধ্যে। তবে আওয়ামী লীগ আসনটি ধরে রাখতে চাইছে আর বিএনপি পুনরুদ্ধারে মরিয়া।
বরগুনা-২ (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) আসনটি এক সময়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও পরপর দুবার আওয়ামী লীগের দখলে থাকায় আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলুর মৃত্যুতে ২৮ জুলাই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এর পর উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে শওকত হাচানুর রহমান রিমন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে দশম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন রিমন। এবারও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয়ভাবে বিএনপি এখানে দুভাগে বিভক্ত। এর এক ভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মণি। দল থেকে প্রাথমিক নূরুল ইসলাম মণি ও এ্যাড. খন্দকার মাহবুবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান খন্দকার মাহবুব হোসেন। বর্তমানে তার পক্ষে কর্মীরা মাঠে নেমেছেন।
আসনটি পুনরুদ্ধারে সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মণির দরকার ছিল বলে মনে করেন তার সমর্থকরা। বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, নূরুল ইসলাম মণির অনুসারীদের সঙ্গে খন্দকার মাহবুব হোসেন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। অচিরেই সব ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষের পক্ষে এক সঙ্গে কাজ করবেন তারা। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী মিজানুর রহমান (লাঙ্গল), ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ থেকে জাকির হোসেন (টেলিভিশন) ও ইসলামী ঐক্যজোট থেকে বশির উদ্দিন বিশ্বাস (মিনার)। আসনটিতে কিছুটা সক্রিয় রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু। তিনি গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও বরাবর মূল লড়াই হয়েছে নৌকা ও ধানের শীষে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেন, গত ১০ বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ফলে আবারো এখানে আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যাতে আসনটি উপহার দিতে পারি, সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।
খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।
