নির্বাচনে জিততে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের জড়ো করছে

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৮

খুলনায় বিএনপির দুই প্রার্থীর অভিযোগ

খুলনা অফিস

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) ও খুলনা-৩ আসনের বিএনপির দুই প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে জিততে আওয়ামী লীগ চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি, দলের ক্যাডার ও ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীদের জড়ো করেছে। তারা অস্ত্র নিয়ে মাইক্রোবাসে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। পাশাপাশি পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের তালিকা নিয়ে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে। গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করা হয়।

মহানগর বিএনপি সভাপতি ও খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার এস আই সোবহান ও উত্তম বিএনপির নেতাকর্মীদের তালিকা নিয়ে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন, কাউন্সিলর আলী আকবর টিপুর ক্যাডার বাহিনী, সজল বাড়ই বাহিনী বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন গত শুক্রবার নারী দলের একজন কর্মীকে অর্ধ উলঙ্গ করে পিটিয়েছে। তার ভাই সেলিমকেও বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এটি কোনো ভোট নয়, এটি আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর নাটক। পুলিশ আছে, র্যাব আছে, ম্যাজিস্ট্রেট আছে তা সত্ত্বেও ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। এ পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারের নিকট ১৯টি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটির বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে খুলনা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আমরা সংবাদ সম্মেলন করার পরে এলাকায় নির্যাতন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি এখানে আসব বলে, পুলিশ পোশাকে ও সিভিল ড্রেসে আমার বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে। গত শুক্রবার সকাল থেকে গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এক হয়ে গেছে। তিনি বলেন, গত শুক্রবার পুলিশ ধানের শীষের সক্রিয় নারী কর্মী বিধবা সালমা বেগমকে গ্রেফতার করে। এখন তার দুইটি শিশুর কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হচ্ছে। রাতে খালিশপুর বাজার সমিতির অসুস্থ নেতা খোদাবক্স কোরায়শীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অথচ তার নামে কোনো মামলা নেই। যখন আমরা প্রেস ব্রিফিং করছি তখন বিএনপি নেতা মীর কায়সেদ আলীর যোগীপোলের বাড়ির সামনে থেকে ১৩ জনকে পুলিশ আটক করে নিয়ে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে কেএমপির কমিশনারের প্রত্যাহারের পর অবিলম্বে নিরপেক্ষ নতুন কমিশনার পোস্টিং দিয়ে পুলিশ বিভাগকে সাজিয়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়।

প্রেস বিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট আ ফ ম মহসিন, সাহারুজ্জামান মোর্তজা, জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, অ্যাডভোকেট এস আর ফারুক, অ্যাডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু, অ্যাডভোকেট আক্তার জাহান রুকু, সম আবদুর রহমান, সিরাজুল হক নান্নুসহ প্রমুখ।