নির্বাচনের জবর লড়াই!

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৫০

/ শফিক হাসান

মেয়র ও কাউন্সিলরপ্রার্থীদের আরো কিছু প্রচারণা

 

ইতিমধ্যে অনেক প্রার্থীই নির্বাচনে জেতার জন্য নানা তোড়জোড় শুরু করেছেন! নির্বাচনী বৈতরণী উতরানোর দিকে সবারই প্রবল ঝোঁক। বিভিন্ন প্রার্থী নানারকম প্রতিশ্রুতি ও স্লোগান দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের প্রতিশ্রুতি ঘুরে-ফিরে সামান্য ক’টি বিষয়েই সীমাবদ্ধ! তারা আরো কী কী বলতে পারেন সেগুলো প্রস্তাব করছি আমরা—

v ভোট দেওয়া আপনার পবিত্র দায়িত্ব। ভোটই যখন দেবেন, তখন পবিত্র মানুষটিকেই (মানে আমাকে) দিন!

v আমার পূর্বপুরুষ আপনার ভোট পেয়েছেন। সে সূত্রে আমি আপনার ভোট দাবি করতেই পারি। অন্যথা হলে মরহুমের আত্মা কষ্ট পাবে। আপনি কি তাঁর পুণাত্মাকে কষ্ট দিতে চান?

v আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব—তার মানে নিশ্চয়ই এটা নয়, আমাকে বাদ দিয়ে আপনি অন্য কাউকে ভোট দেবেন! ভুলে যাবেন না, আপনি আমার নির্বাচনী এলাকায় বসবাস করেন!

v পৃথিবীটা হলো দেওয়া আর নেওয়ার বশ! আমি আমাকে ভোট দেবেন বিনিময়ে আমি চোট বা অন্য কিছু দেব! ভোট না দিলে যে কিছু দেব না, তা ভাবার কোনো কারণ নেই! তবে সেই জিনিসটা আপনার পছন্দ নাও হতে পারে!

v আমি জানি, যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আপনি আমাকেই ভোট দেবেন। তবে কষ্ট এবার আপনাকে ভোটকেন্দ্রে এসেই ভোটটা দিয়ে যেতে হবে। আমার গ্রুপের ছেলেরা এত কড়াকড়ির ভেতরে সুবিধা করতে পারবে বলে মনে হয় না! বুঝতেই পারছেন...!

 

নির্বাচনের গরমে...

 

বিগত বছরগুলোর নির্বাচনী মৌসুমে একটি কোমল পানীয় কোম্পানি টেলিভিশনে ব্যতিক্রমধর্মী একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করত—নির্বাচনের গরমে/আরসি খাও আরামে! নির্বাচনে কি মানুষ শুধু কোমল পানীয়ই খাবে, আর কিছু না! অবশ্যই খাবে—

 

চা :চা এমন একটি পানীয়, যা খেতে শীত-গরম কিংবা কোনো ঋতু লাগে না! যেকোনো সময়েই চমত্কার লাগসই! অমুক ভাইয়ের চরিত্র/ফুলের মতো পবিত্র বলে মিছিল করে যে মাগনা গরম চা পাওয়া যায়; সে চা খেয়ে গলার এমন জোর হয়, চাইলেও গলা আর ভাঙে না! চা শেষে আরো বড়ো গলায় সেই নেতার গুণগান চলে!

ঘুষ :ঘুষ মানে টাকা। দৈনন্দিন ভাষায় মানুষ যতবার না বলে ‘টাকা খায়’ তারচেয়ে অনেক বেশি বলে ‘ঘুষ খায়’। নির্বাচন মানেই টাকার ছড়াছড়ি। প্রার্থীরা জানে তাদের কাজে ভোটারের মন গলবে না; অন্যভাবে গলাতে হবে! বুদ্ধিমান ভোটাররা ঠিকই ঘুষ খাওয়ার চেষ্টা করবেন; তারা জানেন বিজয়ী হলে প্রার্থীদের কেউ কেউ দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা অর্জনের চেষ্টা করবেন; এ টাকায় ভোটারেরও হিস্যা আছে!

খাবি :সমস্যায় পড়লে মানুষ খাবি খায়; যদিও এই খাবি খাওয়াটা দৃশ্যমান কিছু না! কাকে ভোট দেওয়া উচিত হবে—এই ভাবনা চলবে লাগাতার সেই সঙ্গে চলবে খাবি খাওয়া!

ধমক :অপছন্দের মানুষ সামনে পড়লে হাবভাবে হলেও সে বুঝে ফেলে তাকে যে পাত্তা দেওয়া হচ্ছে না। মানুষই মাত্রই গুরুত্ব পেতে চায়! যথোপযুক্ত ‘গুরুত্ব’ না পেয়ে কোনো কোনো প্রার্থী ঠিকই বিজয়ী না হলে ভোটারকে কীভাবে হেনস্থা করবে—মূল্যবান তথ্যটা জানিয়ে দিতে ভুলবে না!

পল্টি :কয়েক বছর প্রার্থীর একদিন ভোটারের! সুতরাং ভোটার কোনো কোনো প্রার্থীকে ভোট দেবে বলেও না দিয়ে পল্টি খাবে—অস্বাভাবিক কী! আওয়ামী লীগ বা বিএনপি এখানে বড় কোনো ব্যাপার নয়!

 

কোন পেশাজীবী প্রার্থী কীভাবে ভোট চাইবেন?

 

প্রার্থী নিজে তো নিজের জন্য সব সময় ভোট চাইতে পারেন না। বাধ্য হয়ে তাকে দ্বারস্থ হতে হয় অন্য মানুষের। ব্যক্তিভেদে ভোট প্রার্থনার পদ্ধতি আলাদা। দেখে নিই, কে কীভাবে ভোট চাইতে পারেন—

 

মানবাধিকার কর্মী :আপনি নিজেকে যদি মানুষ হিসেবে দাবি করেন, তাহলে নিশ্চয়ই মানব সম্প্রদায়ের প্রতি কিছু দায় অনুভব করবেন। মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখা ভদ্রলোক হিসেবে আপনার কর্তব্য। দানবীয় শক্তির উত্থানের পেছনে আপনার পবিত্র হাত কাজ করবে না বলেই বিশ্বাস করি!

ছাত্রনেতা :আমি ছাত্র ছিলাম, তাই বলে আপনি আমার শিক্ষক ছিলেন না। আর শিক্ষক ছিলেন না বলেই আপনি আমাকে পথনির্দেশ করতে পারেন না—কী আমি করব, আর কী করব না। আপনার কাজ হলো, আমার নির্দেশিত প্রার্থীকে ভোট দেওয়া!

ব্যবসায়ী :রাজনীতিই এখন বড়ো ব্যবসা, মানে রাজনীতিকরাই ব্যবসা-বাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রণ করছেন! তাদের ভোট দিলে ভাবব, আপনি আমাকেই ভোট দিয়েছেন! আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলে আপনি স্থিতিশীল মূল্যে দ্রব্য ক্রয় করতে পারবেন—এ বিশ্বাসটুকু অন্তত অন্তরে ধারণ করুন!

কবি :যে কবিতা ভালোবাসে না, সে কবিকেও ভালোবাসবে না—জানা কথাই! কিন্তু আমি জানি, আপনি রুচিশীল মানুষ—কবিতা ভালোবাসেন; সে হিসেবে কবিকেও ভালোবাসবেন। ধরে নিলাম, আপনার ভোটটা কোনো মেয়র না পেলেও আমার কবিতা পাবে!

পুরোনো রাজনীতিক :আমি মানুষের কাছে ভোট চাই; যদিও জানি ভোট চাওয়ার কোনো জিনিস নয়, নেওয়ার জিনিস। যে জিনিসটা আমার দরকার, সেটা আমি যেভাবেই হোক নিয়ে নিই। কিন্তু এবার আমি পুরোনো পথে হাঁটব না; আপনার বিবেকের ওপর ভরসা রাখব। দেখি, আপনার বিবেক সঠিকভাবে কাজ করে কি না!