পঞ্চগড়ের বোদায় চিতাবাঘকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১৭

পঞ্চগড়ের বোদায় একটি চিতাবাঘকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দিনভর ওই এলাকার শত শত মানুষ বাঘটিকে ওই এলাকায় ঘিরে রাখে। খবর পেয়ে বোদা থানা পুলিশ ও বনবিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়েও বাঘটিকে রক্ষা করতে পারেননি, উদ্ধারও করতে পারেননি। বিক্ষুব্ধ লোকজন বাঘটিকে তাদের সামনেই পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞসহ পরিবেশবিদরা।

শনিবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলার বোদা উপজেলার ঝলই শালশিরি ইউনিয়ন ও ময়দানদীঘি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী দৌলতপুর পাথরাজ নদীর পাড় এলাকায় বাঘটিকে হত্যা করা  হয়। এ সময় বাঘ ও মানুষের দৌড়াদৌড়িতে ৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ইউসুফ ও হারুন নামে দুই ব্যক্তি বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিত্সাধীন রয়েছে।

বোদা উপজেলার বসুনিয়াপাড়ার ইসমাইল হোসেন জানান, দুপুরে তার মেয়ে প্রথমে বাঘটিকে দেখতে পায়। পরে আমাকে জানায়। আমি নিজেও বাঘটিকে দেখতে পাই। পরে আমার চিত্কারে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে দেখতে আসে। এরপর একজন দুজন করে শত শত হাজার হাজার মানুষ চতুর্দিকে জড়ো হতে থাকে। অনেক মানুষের কারণে বাঘটি পাথরাজ নদীর পাড়ে অবস্থিত ঢোলকলমি গাছের ভেতরে আশ্রয় নেয়। হাজার হাজার লোকজন ওই এলাকার চতুর্দিকে ঘিরে রাখে। পুলিশ ও বনবিভাগের লোকজনের সামনে মানুষ বাঘটিকে ঢিল ছুড়তে থাকে।   

একই এলাকার গমিরউদ্দিন ও নুর ইসলাম জানান, চিতা বাঘটিকে দেখতে আসা লোকজনের ভিড় সামলাতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উত্সুক লোকজন ঢিল ছুড়ে চিত্কার করে বাঘটিকে বের করার চেষ্টা করে। কিন্তু বাঘটি সেখান থেকে বের হয়নি। অবশেষে সন্ধ্যার সময় বাঘটি ওই ঢোলকলমি গাছের ভেতর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোটা দিয়ে বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।

বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জব্বার চিতাবাঘটিকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান জানান, বাঘ রক্ষার জন্য পুলিশ সেখানে যায়নি। বাঘ রক্ষার জন্য বনবিভাগ ছিল। পুলিশ সেখানে জনগণের নিরাপত্তার জন্য গিয়েছিল। সন্ধ্যায় ওই ঝোপ থেকে বাঘ বের হয়ে দৌড় দিলে স্থানীয় লোকজন হয়ত তাকে মেরে ফেলে।

বোদা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা লোকজনদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। থামানোর চেষ্টা করেছি। বাঘটি যখন বের হয় তখন স্থানীয় লোকজন তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ হাসান মৃত বাঘটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।