পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ। মূল্য: ৪৫০ টাকা
পঁচাত্তর পরবর্তীকালে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে কেবল ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকেই নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করাই ছিল ঘাতকদের প্রকৃত উদ্দেশ্য। বঙ্গবন্ধু যেহেতু এই চেতনার ধারক-বাহক শুধু নন, পরিণত হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অনন্য অবিচ্ছেদ্য একটি প্রতীকে—তাই তাঁকেই প্রথম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রক্ষমতায় যে বিষবৃক্ষটি ডালপালা বিস্তার করেছিল, তার সকল তত্পরতাই পরিচালিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করে ফেলার লক্ষ্যে। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের মন থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমূলে উত্পাটনের সব অপচেষ্টাই যখন ব্যর্থ হয়, তখন রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী দুর্বৃত্ত চক্রটি কৌশল পরিবর্তন করে। গ্রহণ করে ‘রেড ফ্ল্যাগ টু অপোজ রেড ফ্ল্যাগ’ নীতি। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-বিকৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টির এক ভয়ঙ্কর খেলা। বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম কুশীলব—মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিধ্বংসী একজন খলনায়ককে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে আখ্যায়িত করা এবং একাত্তর ও পঁচাত্তরের চিহ্নিত ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে লাখো শহিদের রক্তস্নাত পতাকা তুলে দেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাগুলো ছিল সেই খেলারই দৃশ্যমান অংশ। দৃশ্যের অন্তরালের চিত্রটি ছিল আরো লোমহর্ষক। দৃশ্যত সেই চক্রটি এখন ক্ষমতায় না থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিনাশী ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। এ গ্রন্থে সেই ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচনের চেষ্টা হয়েছে। একইসঙ্গে সন্ধান করা হয়েছে সেই বিষবৃক্ষের শেকড়ও।
