নিলয় মামুন
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে আঙুলের ছাপ না মেলায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে ভোটারদের। বিভিন্ন জায়গায় অনেকের আঙুলের ছাপ না মেলায় ফেরত যেতে হয়েছে বলে জানা যায়। এমনকি ইভিএমে ভোটের পদ্ধতি দেখাতে গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করারও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আঙুলের ছাপ না মেলায় বিরম্বনায় পড়তে হয়েছে স্বয়ং নির্বাচন কমিশনারকেও। গতকাল সকালে উত্তরার আই ই এস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। কলেজ ভবনের দোতলায় ৮ নম্বর বুথে তিনি ভোট দিতে যান। ইভিএম মেশিনে তার দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি স্ক্যান করা হয়। তবে কোনোটিই ম্যাচ করেনি। এরপর দ্রুত কর্মকর্তারা তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এরপর তিনি ভোট দিয়ে চলে যান।
এ বিষয়ে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিদ্দিকা বুলবুল বলেন, ‘সিইসির প্রথম দুটি বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে তা ম্যাচ করেনি। পরে আমরা আর চেষ্টা করিনি। তাড়াহুড়োর কারণে এবং ভোটাগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আমরা তার এনআইডি নম্বর দিয়ে ভোট নিয়েছি।’ একই বিরম্বনার স্বীকার হন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। রাজধানীর বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে ড. কামাল হোসেন কয়েকবার চেষ্টার পরেও আঙুলের ছাপ মেলেনি। বার বার আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর মেশিনের স্ক্রিনে লেখা উঠতে দেখা যায় ‘আবার চেষ্টা করুন’। পরে তিনি আধাঘণ্টা চেষ্টা করে ভোট দেন।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে সাঁতারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে যান ভোটার শান্তি রানি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘হাত ধুইয়া আইবার কইলো। সাবান দিয়া হাত ধুইয়া আইলাম তবুও ছাপ আহে না।’ এই ওয়ার্ডের ভোটার সহিদা খাতুনও একই সমস্যায় পড়েন। যাদের আঙুলের ছাপ মেলেনি এর মধ্যে বেশির ভাগই নারী এবং বয়স্ক। পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার, ফরাশগঞ্জ, গ্লোরিয়া, সূত্রাপুর, ফরিদাবাদ, মতিঝিল, কমলাপুর ও নিউমার্কেট এলাকায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে শতকরা এক শতাংশ এ ধরনের সমস্যায় পড়েছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিউমার্কেট এলাকার আইয়ুব আলী কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার রেজাউল হক বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ এক শতাংশ ভোটারের আঙুলের ছাপ না মিললে প্রিজাইডিং অফিসারের সহযোগিতায় এক শতাংশ ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ কেন্দ্রে এক শতাংশের বেশি ভোটারের আঙুলের ছাপ না মেলায় তারা ভোট দিতে পারেননি।’ অন্যদিকে কমলাপুর বিআরটিসি বাস ডিপোর প্রিজাইডিং অফিসার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের এ কেন্দ্রে সকাল থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আঙুলের ছাপ না মেলায় তিন-চার জন ভোটারকে ফেরত দিয়েছি।’
এদিকে গতকাল সকালে গুলশানের মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিতে এসে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের মা নাসরিন আউয়ালকেও ‘আধা ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করতে’ হয়েছে। এ কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ফারজানা শারমিন বলেন, ‘প্যানেলে কানেকশন লুজ ছিল, দু-তিন দফায় চেষ্টা করেছি। পরে আমরা প্যানেল চেঞ্জ করে দিয়েছি। নাসরিন আউয়াল পরে ভোট দিয়েছেন।’ এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘একটা ভুল করছেন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা। তারা প্রথমেই আঙুলের ছাপ দিয়ে পরিচয় শনাক্ত করেছেন। কিন্তু নিয়ম হলো-স্মার্টকার্ড বা এনআইডি নম্বর দিয়ে পরিচয় শনাক্ত করতে হবে। পরে ব্যালট ইউনিট ওপেনের জন্য আঙুলের ছাপ দিতে হবে। এতে না মিললে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তার আঙুলের ছাপ দিয়ে সর্বোচ্চ এক শতাংশ ভোটারের ব্যালট ইউনিট ওপেন করবেন। এরপর ভোট দেবেন। এতে সংশ্লিষ্ট ভোটারের আঙুলের ছাপ না মিললেও সেটা সংরক্ষিত থাকবে মেশিনে। এটা করা হয়েছে, যাতে কেউ দ্বিতীয়বার এসে ভোট না দিতে পারে।’
