পারলো না বাংলাদেশ

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১৯

ঝড়ের কোনো লক্ষণ প্রকৃতিতে ছিলো না; এটা ঝড়ের সময়ও নয়। তারপরও মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম গতকাল ঝড় দেখলো—এভিন লুইসের ঝড়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার লুইসের ঝড়ো ইনিংস ও বোলারদের আটোসাটো বোলিংয়ের কাছে হেরে গেলো বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ হারলো ৫০ রানে। এর ফলে পূরণ হলো না বাংলাদেশের তিনটি টানা ট্রফি জয়ের স্বপ্ন। টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-২ ব্যবধানে হারার আগে বাংলাদেশ এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিলো।

আগে ব্যাট করে লুইসের তাণ্ডবে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯.২ ওভারে ১৯০ রান তুলেছিলো। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ ১৪০ রানে অলআউট হয়।

জবাব দেওয়ার শুরুতে তামিম ইকবালকে দ্রুত হারায় বাংলাদেশ। তিনি ফেরেন রান আউট হয়ে। এরপর লিটন দাসের এক আউটের আবেদন নিয়ে তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। লিটন ক্যাচ তুলে দিলেও আম্পায়ার ‘নো বল’ ঘোষণা দেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই সিদ্ধান্ত নেমে না নেওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ধরে চললো বিতর্ক।

এই বিতর্ক শেষে শুরু হলো বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস। এক প্রান্তে লিটনই যা প্রতিরোধ গড়লেন। বাকী ব্যাটসম্যানরা যাওয়া আসার মধ্যে রইলেন। শেষ পর্যন্ত লিটনও ২৫ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো ৪৩ রান করে ফিরে আাাসেন। শেষ দিকে বিনোদন দিয়েছেন ব্যাট হাতে মেহেদী হাসান মিরাজ ও আবু হায়দার রনি। মিরাজ ১৯ রান করেন ও রনি ২২ রানে অপরাজিত থাকেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসটা ছিলো ভালো শুরুর একটা নিদারুণ অপচয়। এভিন লুইসের দানবীয় ব্যাটিংয়ে মাত্র ৫ ওভারে ৭৬ রান তুলে ফেলে ক্যারিবিয়রা। এই সময় মনে হচ্ছিলো, ব্যাটিংয়ের চেয়ে সহজ কাজ দুনিয়াতে আর নেই। শাই হোপ ১২ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় ২৩ রান করে আউট হন। সাকিব আল হাসান বাংলাদেশকে প্রথম হাসির উপলক্ষ এনে দেন। কিন্তু এই হাসি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

এক প্রান্তে উইকেট পড়েছে নিয়মিত। অন্য প্রান্তে লুইস একেবারে সাইক্লোনের মতো ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন। এর মধ্যে মুস্তাফিজ এসে কেমু পলের উইকেট তুলে নেন। তারপরও লুইস শান্ত হচ্ছিলেন না। এক সময় মনে হচ্ছিলো, দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড করে ফেলবেন। কিন্তু এই লুইসকে ঠান্ডা করা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোরবোর্ডকে শান্ত করার কাজটা করেন এসে মাহমুদউল্লাহ।

দশম ওভারে আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলে লুইসকে ফেরান রিয়াদ। ততোক্ষকে ৩৬ বলে ৬টি চার ও ৮টি ছক্কায় ৮৯ রান করে ফেলেছেন গেইলের উত্তরসূরি। পরের বলেই রিয়াদ ফেরান বিপজ্জনক হতে পারা সিমরন হেটমেয়ারকে। এখান থেকেই পিছলে যেতে শুরু করে ক্যারিবিয় ব্যাটিং।

১৬ বলে ১৯ রান করা রভম্যান পাওয়েলকেও আউট করেন রিয়াদ। সবমিলিয়ে তিনি নেন ৩ উইকেট। ইনিংসের এই পর্যায়ে এসে মুস্তাফিজও ভেল্কি দেখান। তিনিও তুলে নেন আরও ২ উইকেট। ২৪ বলে ২৯ রান করা নিকোলাস পুরানকে ফেরান মুস্তাফিজ; ফেরান প্রতিপক্ষ অধিনায়ক ব্রাথওয়েটকেও। এরপর সাকিব এসে নিজের শেষ ওভারে তুলে নেন আরও ২ উইকেট। সবমিলিয়ে রিয়াদ, মুস্তাফিজ ও সাকিব ৩টি করে উইকেট নেন। আর শেষ ব্যাটসম্যান ওশানে থমাস রান আউট হয়ে ফেরেন।