স্পোর্টস ডেস্ক
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ‘বিতাড়িত’ কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে এবার নতুন বোমা ফাটালেন। তার বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) নিজেদের অধীনে যে তদন্ত করেছে, তাকে এবার তিনি বেআইনি বলে দাবি করলেন। একই সঙ্গে অস্বীকার করেছেন তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ। বোর্ডকে লেখা এক চিঠিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন বাংলাদেশের সাবেক এই কোচ।
লঙ্কা জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অধীনে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই যোগ দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কায়। দলটিতে কোচ হিসেবে তার মেয়াদ ছিল তিন বছরের। কিন্তু, ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ আসতে না আসতেই তিনি আস্থা হারিয়ে ফেলেন। দলের বাজে পারফরম্যান্সের সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড় ও বোর্ডের সঙ্গেও ঝামেলায় জড়িয়ে বিপাকে পড়েন কোচ চান্দিকা।
পরে, বিশ্বকাপ শেষেই তাকে জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেয় এসএলসি। তবে, বরখাস্ত করা হয়নি তাকে। চুক্তিভঙ্গ করার অভিযোগ দিয়ে সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে বোর্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের মামলা ঠুকে দেন হাতুরুসিংহে।
সম্প্রতি বোর্ড তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি বাতিল করেছে। এই অবস্থায় এসএলসি বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে হাতুরুসিংহে লিখেছেন, ‘এসএলসির তদন্তে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, তা আমি প্রত্যাখ্যান করছি। আমাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত আইনের বরখেলাপ, অযৌক্তিক, ভুল এবং চুক্তির মূল নীতির বিরোধী।’
তিনি এই তদন্তকে বেআইনি দাবি করে তিনি আরো লিখেছেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, আমার সঙ্গে বোর্ডের যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা আমার বিরুদ্ধে চাইলেই কোনো তদন্ত করা যাবে এমন কিছুর কোনো ধারা রাখা হয়নি। ফলে, এই তদন্তই কার্যত বেআইনি।’
তদন্ত করলে যে হাতুরুসিংহের সঙ্গে করা চুক্তির কয়েকটা ধারা ভঙ্গ করার ঝুঁকি থাকবে—এমন সতর্কবার্তা এসএলসির আইনজীবীরা আগেই বোর্ডকে দিয়ে রেখেছিল। এসএলসির দাবি, তারা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সব কিছু শেষ করতে চেয়েছিল হাতুরুসিংহের সঙ্গে। কিন্তু, হাতুরুসিংহে তাতে রাজি না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই গেছেন হার্ডলাইনে। অন্যদিকে, কর্মকর্তাদের ক্ষোভের আরেকটা কারণ ছিল বল টেম্পারিং ইস্যু। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ঘটা সেই ঘটনায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
