ষষ্ঠ থেকে দশম :ঝরে গেল ১০ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৪৪

আজ সোমবার শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালে এই শিক্ষার্থীরা যখন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, তখন সব মিলিয়ে ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ২৬৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। সে হিসাবে ১০ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থীর কোনো হদিস নেই। অর্থাত্, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এই পাঁচ বছরে তারা ঝরে পড়েছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে প্রাথমিক ও ইবতেদায়িতে ১৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৩৮ জন ছাত্রী এবং ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫২৭ জন ছাত্র অংশ নিয়েছিল। আর এ বছর ২৮ হাজার ৮৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেবে। ৯টি সাধারণ              বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে এবার ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৯১৮ জন ছাত্র এবং ৮ লাখ ৪৩ হাজার ৩২২ জন ছাত্রী। দাখিলে এবার ২ লাখ ৮১ হাজার ২৫৪ জন এবং এসএসসি ভোকেশনালে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৫ জন মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসবে। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মাধ্যমিক শিক্ষা বিস্তারে সরকার বৃত্তি, উপবৃত্তি, বিনা মূল্যে বই বিতরণসহ নানা সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। যথেষ্ট পরিমাণে বিনিয়োগ করছে। প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হচ্ছে। জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা, চাকরির স্থায়িত্ব ও পেশার প্রতি মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। এর পরও এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের এই ঝরে পড়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কয়েক বছর আগে যেসব শিক্ষার্থী নিবন্ধন করত, টেস্ট পরীক্ষায় দুই বা তিন বিষয়ে ফেল করলেও তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে টেস্ট পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে ফেল করলে তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয় না। সে কারণে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিবন্ধনের চেয়ে পরীক্ষায় কম অংশ নিচ্ছে।

আমিরুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, সরকার শিক্ষায় নানা সুযোগ-সুবিধা দিলেও একজন শিক্ষার্থীর পেছনে বাবা-মায়ের অনেক অর্থ ব্যয় হয়। স্কুলের টিউশনি ফি, সহায়ক বই, প্রাইভেট টিউশনি—সব মিলে যে খরচ হয়, তা সব বাবা-মায়ের বহন করা সম্ভব হয় না। দারিদ্র্যের কারণেও অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

আজ শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা

এসএসসির বাংলা প্রথম পত্র এবং দাখিলের কুরআন মাজিদ ও তাজভিদের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে এবারের পরীক্ষা। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আজ রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষা চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আর ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত নেওয়া হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। দাখিলের তত্ত্বীয় পরীক্ষা আজ থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ১ মার্চ। এরপর ৮ মার্চের মধ্যে শেষ হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।