এনবিআরের সভায় রাজস্ব কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন কর্মকর্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায় বিশেষত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও শুল্ক আদায় অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। গত রবিবার রাজস্ব ভবনে অনষ্ঠিত ঐ বৈঠকে মাঠ পর্যায়ে ভ্যাট ও শুল্ক আদায় কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন কর্মকর্তারা। সভায় কর্মকর্তারা আগামী মাসগুলোতে তাদের রাজস্ব আদায়ের কর্মকৌশলও তুলে ধরেছেন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে ভ্যাট আদায় বাড়বে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর ইতিবাচক প্রবণতা গত ডিসেম্বর থেকেই শুরু হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত এনবিআরের এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, এনবিআর চেয়ারম্যান মাঠ পর্যায়ের কমিশনারদের কাছে অফিসের কার্যক্রম, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ও ভবিষ্যত্ কর্মকৌশল সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। কর্মকর্তারা মূলত আমদানি কমে যাওয়াকে শুল্ক ও ভ্যাট কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। বিশেষত উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি কমে যাওয়া, শূন্য ও স্বল্প শুল্কের আমদানি বেড়ে যাওয়া ছাড়াও জ্বালানি ও গ্যাসসহ কয়েকটি খাতে বড়ো আকারের ছাড় দেওয়া হয়েছে। আবার বড়ো বড়ো প্রকল্পের বিভিন্ন পণ্য আমদানিও কর অব্যাহতি পাচ্ছে। এছাড়া নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন পর্যায়ে এনবিআরের কিছু বিধিমালার জটিলতাও ভ্যাট আদায় কমিয়েছে। এসব কারণে রাজস্ব আদায় কমেছে।
অবশ্য ভ্যাট বিভাগের এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ডিসেম্বর থেকেই ভ্যাট আদায়ে গতি বেড়েছে। ডিসেম্বরে ভ্যাট আদায় বেড়েছে ২২ শতাংশ। এছাড়া জানুয়ারি থেকে গ্যাসের সরবরাহ পর্যায়ে বাড়তি প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে। তামাকসহ বড়ো রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আদায় বাড়বে বলে আশা করছি। এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে সব মিলিয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩১ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। আর ভ্যাট আদায়ে ঘাটতি প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।
