নদী ভাঙনের আশঙ্কা
মুলাদী (বরিশাল) সংবাদদাতা
বরিশালের মুলাদীতে আড়িয়াল খাঁ, জয়ন্তী ও নয়াভাঙ্গনী নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুলাদী উপজেলায় কোনো বালু মহাল না থাকলেও ব্যবসায়ীরা অবৈধ উপায়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় নদীভাঙন বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে আলীমাবাদ গ্রামের মনির হোসেন বরিশাল জেলা প্রশাসক ও মুলাদী থানা অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
মুলাদি সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কামরুল আহসান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীভাঙনে বাড়িঘর হুমকির মুখে রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন যদি কিছু পদক্ষেপ না নেয় তবে আমরা কি করতে পারি। যারা বালু উত্তোলন করছে তারা সবাই পরিচিত।
সাহেবের চর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হান্নান বলেন, বালু উত্তোলন করায় বাড়িঘর ও ব্রিজ ভাঙনের হুমকিতে আছে। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।
প্রতিবছরই বর্ষায় তিন নদীর ভাঙনে অনেক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন রোধে এসব নদী থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হলেও মুলাদী উপজেলার পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার বেশ কয়েকজন ড্রেজার ব্যবসায়ী আড়িয়াল খাঁ নদীর আলীমাবাদ এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মুলাদীর ড্রেজার ব্যবসায়ীরা। বালু ব্যবসায়ীরা জয়ন্তী নদীর চরমালিয়া, কৃষ্ণপুর, মৃধারহাট, চরবাটামারা এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। ঐ ব্যবসায়ীরা আড়িয়াল খাঁ নদীর মিয়ারচর, সাহেবেরচর, বানীমর্দন, মনষাগঞ্জ, নন্দীরবাজার, নয়াভাঙ্গনী নদীর মোল্লার বাজার, খাসেরহাট, পৈক্ষা নমরহাট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে নিচ্ছে।
উপজেলার রামচর বাজার, বাজার সংলগ্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঈদগাঁহ মাঠ, এবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আলীমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাইক্লোন শেল্টারসহ অনেক বসতভিটা নদীর কাছে রয়েছে।
এ ব্যাপারে ড্রেজার ব্যবসায়ী আব্দুল হক হাওলাদার জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে পুকুর, ডোবা ভরাটের জন্য ভিটি বালুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই আমাদের বালু উত্তোলন করতে হচ্ছে।
মুলাদী থানার ওসি ফয়েজ উদ্দীন মৃধা জানান, অবৈধ ড্রেজার বসানোর সংবাদ পেলেই তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।
মুলাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুভ্রা দাস জানান, এই উপজেলায় কোনো বালু মহাল নেই। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
