আমরা প্রকৃতিকে ঠেলে দিচ্ছি মৃত্যুর দিকে

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫৮

প্রজ্ঞা আহম্মদ জ্যোতি

পৃথিবীর ফুসফুসে আগুন, পুড়ছে পৃথিবীর ফুসফুস, ঝলসে গেল পৃথিবীর ফুসফুস। এমন শিরোনাম আমরা গত আগস্ট মাসে প্রচুর দেখেছি। এবং কয়েকটা নিজের ফেসবুক নিউজফিডেও আমরা শেয়ার করেছি।

গত আগস্ট মাসে আগুন লাগে আমাজন মহাবনে। পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের শতকরা ২০ ভাগই আসে এই আমাজন থেকে। কিন্তু সেই অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে আমাজনের বিরাট একটি অংশ। এর জন্য কি শুধুই প্রকৃতি দায়ী? নাকি প্রকৃতি যাদের পেলে-পুষে রাখছে তারা দায়ী?  কেন পুড়ল আমাজন?

এরপর আসুন মাত্র কয়েকদিন আগের ঘটনায়। অস্ট্রেলিয়ার দাবানলের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। সাধারণত গ্রীষ্মকালে তাপদাহের কারণে প্রতি বছরই সেখানকার জঙ্গলে দাবানল হয়। কিন্তু এবার কেন এত ভয়াবহ হলো? পুড়ে গেল লাখ-লাখ গাছপালা, জমি, পশুপাখি। যাতে ছিল অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণ।

আসল কথা, সবকিছুর মূলে আমরা মানুষরাই দায়ী। দিনের পর দিন প্রকৃতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে নিজের অজান্তে নিজেকেই নিয়ে যাচ্ছি বিলুপ্তির দিকে। হচ্ছি আমরা বড়ো বড়ো কারখানার মালিক, যানবাহনের কালো  ধোঁয়া বের হলে বের হোক তাতে আমাদের কি! ভাবছি ঠিক এমন। অতিসাধারণ জীবনে খাবারের প্যাকেট, ময়লা ডাস্টবিনে গিয়ে ফেলতে গেলে আমরা ভাবি ধুর যেখানে-সেখানে ফেলে দিই, তাতে আমার ক্ষতি কি? মানুষ গাছ কাটছে, বন কাটছে, মানে মানুষ কাটছে নিজেরই শ্বাসনালিকে।

পৃথিবীতে থাকার জায়গা নেই, বাড়ছে মানুষের চাপ। কিন্তু এই পৃথিবীতে বেশ কিছু পরিত্যক্ত শহরও আছে। যার মধ্যে রাশিয়ার চেরনোবিলও একটি। কেন পরিত্যক্ত হলো চেরনোবিল? যার এককথায় উত্তর দিতে পারেন, মানুষের তৈরি পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার জন্য। বর্তমানে চেরনোবিল শহরটি পরিত্যক্ত এবং প্রায় ৫০ মাইল এলাকা জুড়ে কেউ বাস করে না। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে  বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘চেরনোবিলের ধ্বংসাবশেষে থাকা গলিতপ্রায় ২০০ টন পরমাণু জ্বালানি থেকে যে ভয়াবহ  তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়েছে তা হাজার বছরেও সম্পূর্ণ দূর হবে না।’ আর এর সমস্তই হয়েছে মানুষের উচ্চ আকাঙ্ক্ষার ফলে। এর ভয়াবহতা যদি সামান্য অনুভব করতে চান, তাহলে দেখতে পারেন এইচবিওর মিনি সিরিজ চেরনোবিল।

সবমিলিয়ে আমরাই আমাদের প্রকৃতিকে ঠেলে দিচ্ছি মৃত্যুর দিকে। আর গাধা বেকুব আমরা নিজেরাই নিজেদের অস্তিত্বকে করছি ধীরে-ধীরে ধ্বংস। জলবায়ু হচ্ছে আমাদের ঘরের সেই অনুকরণপ্রিয় শিশুটি যে আপনি পরিবর্তন হলে সেও পরিবর্তন হবে। ফলে আপনি যদি খারাপ কাজ করেন, সেই প্রভাব ঐ শিশুটির ওপরেই পড়বে। যার ওপর নির্ভর করছে আপনার ভবিষ্যত্। ধ্বংস করবে আপনাকেই। এখন কাউকে যদি বলেন বা বলি পরিবেশ দূষণ করবেন না। তখন সে বলবে আগে নিজে বাঁচি পরে পরিবেশের চিন্তা! মজার ব্যাপার হচ্ছে সে যে এভাবে আত্মহত্যা করছে, তা সে নিজেই জানে না।

১৬ বছর বয়সি গ্রেটা থুনবার্গ। যে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে  পৃথিবীব্যাপী গড়ে তুলেছে দুর্বার আন্দোলন। এর জন্য তাকেও  হতে হয় অনেক হাসি-ঠাট্টার খোরাক! স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্টও তাকে ট্রলের উপকরণ বানান। পরপর দুটি প্রাকৃতিক অগ্নিকাণ্ড আঘাত হানলো পৃথিবীর ওপর।  মানুষ কিন্তু আরো একটা মজার খেলায় ব্যস্ত। অন্য মানুষকে ধ্বংস করতে তারা জেনেবুঝে নিজ হাতেই  বানাচ্ছে  পারমাণবিক  বোমার  মতো  ধ্বংসাত্মক  খেলনা। এখন আর ঘোড়দৌড়ে তীর-ধনুক নিয়ে ‘আক্রমণ’ বলে সাম্রাজ্য বিস্তার হয় না। এখন চলে আধিপত্য বিস্তারের খেলা। যা আরো ভয়াবহ নির্মম। এ এক ভয়াবহ বিকারগ্রস্ত যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা।

সবমিলিয়ে মানুষ এখন নির্বিঘ্নে আত্মহত্যা করছে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়