ক্যানসার রোগী বাড়ছে প্রতি বছর

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:১৮

দেশে প্রতি বছর নতুন করে ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট কৌশল ও কর্মপরিকল্পনার অভাবে জানা হচ্ছে না কোন ক্যানসারে কত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। ক্যানসার চিকিত্সা ব্যয়বহুল হওয়ায় এই মরণব্যাধি প্রতিরোধে আমাদের প্রয়োজন একটি জনস্বাস্থ্য নীতি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামগ্রিক ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করতে গেলে একটি কৌশলপত্র তৈরি করতে হবে। জাতীয় ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ কৌশল ও সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাবে সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীরা। এ কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের জন্য জাতীয় ক্যানসার নিয়ন্ত্রণ কৌশল, কর্ম-পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা ভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন চালু জরুরি বলে তাদের অভিমত।  বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক ও পাবলিক হেলথের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোজাহেরুল হক বলেন, ক্যানসার চিকিত্সা যেহেতু ব্যয়বহুল, সেহেতু এ রোগ আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি বলেন, ধূমপান মুখের ক্যানসারের অন্যতম কারণ। বায়ুদূষণের কারণে মানুষ অন্যান্য ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। নেপালের কাঠমান্ডু শহরটি ধূমপানমুক্ত। আমরাও যদি ধূমপানমুক্ত শহর তৈরি করতে পারি, ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে। রোগী কমে আসলে রাষ্ট্রের ও জনগণের ব্যয় কমে আসবে।  আমরা যদি স্কুল হেলথ প্রোগ্রামের ভেতরে কিশোরী মেয়েদের সচেতন করে তুলতে পারি, তাহলে জরায়ু মুখের ক্যানসার ও স্তন ক্যানসার নির্মুলে তা ভূমিকা রাখবে।

এদিকে, ‘আই অ্যাম অ্যান্ড আই উইল’ অর্থাত্ আমি আছি, আমি থাকব ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ ৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হবে ‘বিশ্ব ক্যানসার দিবস-২০২০’। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (আইএআরসি) এর অনুমিত হিসাব বলছে প্রতি বছর বাংলাদেশে যে দেড় লাখ মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হন তার মধ্যে ১ লাখ ৮ হাজারই মারা যান। এ ব্যাপারে ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৫ সালে দেশে প্রথম হাসপাতালভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন চালু হয়  যা থেকে ক্যানসারের ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ গেলেও পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে দেশের একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিট হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সেখানে সারা দেশের রোগীরা ভিড় জমাচ্ছে। যারা অপারেশনের জন্য গড়ে একমাস, কেমোথেরাপির জন্য ২ থেকে ৩ সপ্তাহ, বিকিরণ চিকিত্সার জন্য চার মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন।