ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে দলীয়ভাবে বৈঠক করে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনকে মেয়র পদে প্রার্থী করেছিল সংসদের প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই নীরব ছিল দলটি। মিলনের পক্ষে দলের কোনো বক্তব্য ছিল না, দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতা তার পক্ষে প্রচারণায়ও নামেননি। বলতে গেলে একাই ১৫ দিন প্রচারণা চালিয়েছেন মিলন। শেষ পর্যন্ত শনিবারের ভোটে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে ৫ হাজার ৫৯৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন মিলন। আর মিলনের পাঁচ গুণ অর্থাত্ ২৬ হাজার ৫২৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন চরমোনাই পিরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী আবদুর রহমান (হাতপাখা)। উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে ব্রি. জে. (অব.) জি এম কামরুল ইসলামকে জাপা প্রার্থী করলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রার্থী ঘোষণা করে দলের নেতৃত্ব নিষ্ক্রিয় থাকা এবং একা লড়ে সাড়ে ৫ হাজার ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে থাকার মূল্যায়ন করতে গিয়ে হাজী মিলন গতকাল সোমবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি তো নির্বাচন করতেই চাইনি। পার্টির মহাসচিব (মসিউর রহমান রাঙ্গা) আমাকে বললেন, তুমি প্রার্থী হও, নইলে তো পার্টিই থাকে না, ইজ্জতও বাঁচে না। পার্টির ইজ্জত বাঁচাতেই আমি প্রার্থী হয়েছি। অথচ প্রার্থী হওয়ার পর ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত মহাসচিব একবার ফোন করে খবরও নেননি। দলের চেয়ারম্যান (জি এম কাদের) অবশ্য কয়েকবার ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। এটুকুই। আমি একাই ভোট করেছি। যা ভোট পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ।’ হাজি মিলন আরো বলেন, ‘এবারের ভোটে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাপা কারোও অবস্থাই ভালো নয়। অবস্থা ভালো দেখলাম শুধু চরমোনাই পিরের পার্টির, তাদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা এবার গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এই ভোটে সবাই হেরেছে, লাভ হয়েছে শুধু চরমোনাই পিরের পার্টির।’
চরমোনাই পিরের দলের চেয়েও মিলন কম ভোট পেলেও জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের বললেন, ‘দেশের প্রধান তিনটি দলের মধ্যে জাপা সবচেয়ে সম্ভবনাময় দল। মানুষ বিশ্বাস করে দেশের কল্যাণে কাজ করার ক্ষমতা শুধু জাপারই রয়েছে। তাই প্রতিদিনই বিভিন্ন দলের নেতারা জাপায় যোগ দিচ্ছেন।’ গতকাল তিনি তার বনানী অফিসে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সাবেক ভিপি কিশোর কুমার দে ও সাবেক জিএস এএফএম মোর্শেদ সবুজের জাপায় যোগদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। এসময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জি এম কাদের এ-ও বলেছেন, সব ক্ষেত্রেই স্মরণ রাখতে হবে নেতা কখনোই ভুল করতে পারে না। এটা মনে রেখেই নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে হবে।
জাপার চেয়ারম্যান হওয়ার পর দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জি এম কাদের একাধিকবার বলেছেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়, তারা জাপাকে ক্ষমতায় দেখতে চায়’, ‘দেশের রাজনীতিতে বিএনপির স্থান দখল করবে জাপা’, ‘দুই দল থেকে মুখ ফিরিয়ে মানুষ এখন জাপার দিকে তাকিয়ে আছে’ ইত্যাদি। তবে শনিবারের ভোটের ফলাফলের চিত্রের সঙ্গে কাদেরের এসব কথার আকাশ-পাতাল ব্যবধান দেখে খোদ জাপার নেতাদেরই কাউকে কাউকে গত তিন দিনে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করতে দেখা গেছে।
