ইত্তেফাক রিপোর্ট
দীর্ঘ চার মাস পরে গত ডিসেম্বরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হয়েছিল। তবে তার ধারাবাহিকতা থাকেনি। এক মাস পরেই অর্থাত্ গত মাস জানুয়ারিতে আবারও নেতিবাচক ধারায় ফিরেছে রপ্তানি বাণিজ্য। দেশের রপ্তানি খাত মূলত তৈরি পোশাকনির্ভর। এ খাতে ভালো করলে সার্বিকভাবেও রপ্তানিতে ভালো হয়। আর যখন এ খাতের রপ্তানি কমে যায় তখন মোট রপ্তানিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এমনটাই হয়ে আসছে। গত জানুয়ারি মাসেও তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম রপ্তানি হয়েছে। ফলে প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচক হয়েছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথম সাত মাসে সার্বিক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২১ শতাংশ নেতিবাচক হয়েছে। আর পোশাক খাতে (ওভেন ও নিট মিলে) রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ নেতিবাচক হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬৩৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২ হাজার ২৯১ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে। গত বছর একই সময়ে আয় হয়েছিল ২ হাজার ৪১৭ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।
একক মাস হিসাবে জানুয়ারিতে মোট ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৬৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের অর্থবছরের জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের জানুয়ারিতে এক দশমিক ৭০ শতাংশ কম রপ্তানি হয়েছে।
ইপিবি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে নিট পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৯৬২ কোটি ডলার। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ কম। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৯১ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। এ সময়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ কম আয় হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি করে ৯৪৪ কোটি ৩২ লাখ ডলার আয় হয়েছে। যা আগের অর্থবছরে একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। একইসঙ্গে স্পেশালাইজড টেক্সটাইল ও হোম টেক্সটাইল খাতেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ দুই খাতেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম। হোম টেক্সটাইল খাতের রপ্তানিও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এ খাতে আয় হয়েছে ৪৪ কোটি ২৬ লাখ ডলার।
এছাড়া প্রাইমারি কমোডিটিজ, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, কেমিক্যাল পণ্য, রাবার, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, হ্যান্ডিক্যাফটসসহ বেশ কয়েকটি পণ্যে ভালো রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর বাইরে বেশির ভাগ পণ্যেই রপ্তানি কমে গেছে।
