গত এক দশকে প্রচুর ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ ছাত্রী, কেউবা গৃহিণী। পড়াশোনা, সংসার সব সামলিয়ে কিছু টাকা আয়ও করছেন। যা দিয়ে সংসারের টুকটাক কেনাকাটা, নিজের পড়াশোনার খরচ, অন্যান্য ছোটখাটো খরচ চলে। মূলত ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের এই ব্যবসা হয় অনলাইনে। অনলাইনে অর্ডার হয়। কুরিয়ারে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়। বিকাশ, রকেট এসব মাধ্যমে ক্রেতা মূল্য পরিশোধ করেন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রধান সমস্যা মূলধন। একজন গৃহিণী বা ছাত্রী মূলধন পাবেন কোথায়? শুরুতে পরিবার সহযোগিতা করে বটে। কিন্তু পরে মূলধনের অভাবে ব্যবসা আর বাড়ে না। ব্যাংক তাদের ঋণ দেয় না। আর ব্যাংকঋণের সুদের যে হার, সেটা ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে বহন করা অসম্ভব ব্যাপার। খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি। অথচ সরকারি, বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিনা বা নামমাত্র সুদে ঋণ দিলেও তাঁরা দ্রুত বড়ো উদ্যোক্তায় পরিণত হবেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অসংখ্য পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বর্নিভর হবে। সামাজিক অপরাধ কমবে।
ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক নন। মফস্বলেও তাঁরা ভালো করছেন। কিভাবে অনলাইন ব্যবসায় ভালো করা যাবে, প্রযুক্তিগত যে ব্যাপারগুলো আছে, সে বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় পর্যায়ে দেওয়া যেতে পারে। নারী নিজের পায়ে দাঁড়াক। স্বনির্ভর হোক। তাঁরা আর যাই হোক, রাঘোব-বোয়ালদের মতো ঋণখেলাপি হবে না। তাঁদের নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। বিনা সুদে ঋণ ও প্রশিক্ষণসহ নানারকম উদ্যোগ নেওয়া হলে আজকের ক্ষুদ্র নারী উদ্যেক্তা হয়ে উঠবেন আগামীতে বড়ো উদ্যোক্তা। বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবেন।
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
বনানী, ঢাকা
