প্রতিভাময়ীর গল্প

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:২৪

বিশ্বসংগীতাঙ্গনে আচমকা দুর্দান্ত বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছেন বিলি আইলিশ। মাত্র ১৮ বছর বয়সে পাঁচটি গ্রামি অ্যাওয়ার্ড জিতে নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরে বিলবোর্ড টপ চার্টে বিলি আইলিশের ‘ব্যাড গাই’ গানটির শক্ত  অবস্থান তাকে আরো অনেক শীর্ষে নিয়ে এসেছে। ২০১৬ সালে বড় ভাই ফিনেস ও কনেলের লেখা ও প্রযোজনায় প্রথম গাওয়া গান ‘ওশান আইস’ দিয়েই বিশ্বসংগীত তারকাদের নজরে আসেন তিনি। তার অফিসিয়াল প্রথম গান ‘ডোন্ট স্মাইল অ্যাট মি’ ইউএস, ইউকে, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় টপ চার্টে স্থান করে নিয়েছিল। সম্প্রতি গ্রামি অ্যাওয়ার্ডে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই গায়িকা ইনস্টাগ্রামে গ্রামির ছবি শেয়ার করেছেন। শেয়ার করার পাশাপাশি তিনি লিখেছেন ‘ফাইভ, আর ইয়্যু কিডিং’। তার রয়েছে প্রায় এক কোটি ভক্ত-অনুরাগী। তারা পছন্দ করেছে এই ছবি। ইতিমধ্যে দু’বার নাম উঠিয়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। সবচেয়ে কম বয়সী ও প্রথম নারী হিসেবে সেরা নতুন শিল্পী, সেরা গান, সেরা রেকর্ড আর সেরা অ্যালবাম—গ্রামির সেরা চার পুরস্কারের চারটিই পেয়েছেন তিনি। সেই সাথে সেরা পপ ভোকাল অ্যালবামের পুরস্কারও নিজের ঝুলিতে পুরেছেন বিলি আইলিশ। এছাড়া রয়েছে দুটি আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড ও তিনটি এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ড।

২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিলি তিনটি সিঙ্গেল প্লাটিনাম ও চারটি গোল্ড তকমা পেয়েছেন। তার গান তৈরির প্রক্রিয়া বিষয়ে জানতে চাইলে বিলি আইলিশ বলেন, আমি আর আমার বড় ভাই ফিনেস ও কনেল একসঙ্গে বসে বাড়িতে মিউজিক করি। বাড়িতে বলতে আমার বেডরুমকে গান তৈরির কারখানা বলা যায়। বেশির ভাগ গানই ২০১৮ সালের মার্চ, এপ্রিল আর মে মাসে লেখা’।

কিছুদিন আগেও বিলি আইলিশকে কেউ তেমন চিনতেন না। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন বড় সংগীত তারকা হিসেবে তার খ্যাতি, পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে। অবশ্য একদিন গানের জন্য গ্রামি অ্যাওয়ার্ড জিতবেন আর সারা দুনিয়ায় চমক সৃষ্টি করবেন—তেমন কোনো স্বপ্ন ছিল না তার মনে! সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমরা অ্যালবামটি নিজের মতো করে তৈরি করতে চেয়েছি সবসময়, আমাদের জন্য কাজটা বেশ উপভোগ্য ছিল। মনের আনন্দে কাজ করেছি, এই কারণেই হয়তো সাফল্য ধরা দিয়েছে হাতে’।

২০০১ সালের ১৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোনিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে জন্ম বিলি আইলিশের। মা অভিনয়শিল্পী এবং বাবা চিত্রনাট্যকার হিসেবে সুপরিচিত হলেও দুজনেই সংগীতশিল্পী হিসেবেও স্বীকৃত। আর এমন মা-বাবার কাছেই সংগীতের হাতেখড়ি বিলি। মাত্র চার বছর বয়স থেকেই গানের জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল। বড় ভাইকে সবসময়ে গানের চর্চায় পাশে পেযেছেন। বড় ভাই ফিনেস ও কনেলকে সবচেয়ে বড় বন্ধু ভাবেন বিলি আইলিশ।