জাহিদ হোসেন শোভন। মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রের পাশপাশি একুশে টিভির অনুষ্ঠান প্রধান হিসেব দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের ক্যারিয়ারে ভারসাম্য রক্ষা করেন দারুণভাবে। গুণী এই অভিনয়শিল্পীর সাম্প্রতিক কাজের কথোপকথনে উঠে এলো বেশকিছু তথ্য। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন নুরুল করিম
কেমন আছেন?
ভালো আছি।
একুশে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান হিসেবে যোগ দেওয়ার পর মঞ্চ, ছোটপর্দা ও চলচ্চিত্রে আপনার উপস্থিতি কমেছে...
হ্যাঁ, এটাই স্বাভাবিক। চাকরির সঙ্গে সবকিছু একসঙ্গে সঠিকভাবে করা যায় না। তবে মঞ্চনাটক ‘বলদ’-এ আমি এখনো অভিনয় করছি। তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘রূপসা নদীর বাঁকে’ সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়, মার্চেই প্রেক্ষাগৃহে আসছে। এছাড়া ‘মামা ভাগ্নের বৈঠকখানা’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করছি। এতে আমার সঙ্গে আরেকজন আছেন, ইমতু রাতিশ।
রূপসা নদীর বাঁকে প্রসঙ্গে একটু শুনতে চাই...
চলচ্চিত্রটির কাহিনি গড়ে উঠেছে একজন ত্যাগী বামপন্থী নেতাকে ঘিরে, যাকে ১৯৭১ সালে রাজাকাররা হত্যা করে। ২ ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের ছবিটিতে তিরিশ দশকের স্বদেশি আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন, রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে কমিউনিস্টদের হত্যাসহ বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহ একজন বিপ্লবীর জীবনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণিত হবে। এ সিনেমায় কাজ করতে পেরে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি। আর বিশেষ করে মার্চে মুক্তির সিদ্ধান্ত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত আমি।
চলচ্চিত্রের অবস্থা এখন সঙ্কটাপন্ন। এ মুহূর্তে সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে। তারপরও আপনি কতটা আশাবাদী? তার ওপর এসব সিনেমা খুব কম প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়—
এটি আসলে বিকল্পধারার সিনেমা। গল্প নির্ভর সিনেমা। সত্যি বলতে কী হল নিয়েও এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তারপরও আমরা আশাবাদী। আমরা চাই সিনেমাটি দেখার পর দর্শকরাই বলুক কেমন হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ভালো সিনেমাই মানুষকে হলমুখী করতে পারে।
এবার ছোটপর্দা প্রসঙ্গে আসি। আপনি নিজেও ছোটপর্দায় অভিনয় ও পরিচালনা করেছেন। এখনকার নাটকে বাজেট কম। এর নেপথ্য কারণ কী?
এখন যেহেতু চ্যানেলের সংখ্যা বেড়ে গেছে, বিজ্ঞাপনও ভাগ হয়েছে। নাটকের বাজেট কমাটাও স্বাভাবিক।
কিন্তু বাজেটের সঙ্গে মান নিয়েও একটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে...
এটা মানতেই হবে। বাজেট কমলে মানটাও কমবে। এটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা বিভিন্ন সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে চেষ্টা করছি কীভাবে বাংলা নাটকের সেই সোনালি দিন ফিরিয়ে আনা যায়।
