স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়ায় এক মাসের ব্যবধানে বেসরকারি কোম্পানির ১২ কেজি ওজনের এলপিজি গ্যাসের দাম সিলিন্ডারপ্রতি গড়ে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে বাজার থেকে উধাও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সরবরাহ করা তরলীকৃত বোতলজাত এলপিজি গ্যাস। বিপিসির এক সিলিন্ডার গ্যাসের সরকারি মূল্য ৬৭৮ টাকা। ডিলারদের দাবি, ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর বগুড়া ডিপো থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করে বিপিসি। এখন উত্তরাঞ্চলের ৭৫০ জন ডিলারের কাছে সীমিত পরিমাণ সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। তা ছাড়া বিপিসির সরকারি গ্যাস সিলিন্ডার অনেক পুরনো হওয়ায় ভালভ নষ্ট হয়ে মুখ দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে যাচ্ছে। আবার চাহিদা অনুযায়ী সরকারি সিলিন্ডারের বরাদ্দও মিলছে না। এসব কারণে অনেক ডিলার বিপিসির সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। এ সুযোগে বেসরকারি কোম্পানিগুলো ১ জানুয়ারি থেকে সিলিন্ডারপ্রতি এলপিজি গ্যাসের দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।
গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। বগুড়া শহরের দত্তবাড়ি, কালীতলা এবং কলোনী এলাকাতেই রয়েছে এলপিজি সিলিন্ডার বাজারজাতকারী অধিকাংশ দোকান। বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক মাস আগেও বিপিসির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে গড়ে ৭৫০ টাকায়। এখন সরকারি সিলিন্ডার গ্যাস ১ হাজার টাকায়ও মিলছে না। হোটেল রেস্তোরাঁ ও কারখানায় ব্যবহূত ৩৫ কেজি ওজনের এক সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বেড়েছে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। বর্তমানে এলাকাভেদে এই গ্যাস বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডারপ্রতি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। এক মাস আগে এই গ্যাসের দাম ছিল ২ হাজার ৬০০ টাকা। গত বছরের মাঝামাঝি ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা।
উপশহর এলাকার গৃহিণী ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘এক মাস আগেও ১২ কেজি ওজনের গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছি ৯০০ টাকায়। এখন তা ২০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।’ দত্তবাড়ি এলাকার মেসার্স হালিম ট্রেডার্সে ওমেরা গ্যাস কিনতে এসেছিলেন বৃন্দাবনপাড়ার গৃহিণী রুহিয়া বেগম। ওমেরা সিলিন্ডারের দাম কত? জিজ্ঞাসা করতেই দোকানের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বললেন, ১২ কেজি ওজনের সব সিলিন্ডার গ্যাসের দাম এখন ১ হাজার ১০০ টাকা। এক মাস আগেও এ গ্যাসের দাম ছিল ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা।
মেসার্স হালিম ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান বলেন, বিপিসির কাছে চাহিদা মাসে ৩ হাজার সিলিন্ডার। সেখানে বরাদ্দ মিলছে মাত্র ৩০টি। তাও উত্তোলন করতে হয় সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাট থেকে। ঐ সামান্য সিলিন্ডার বগুড়া পর্যন্ত আনতে গাড়িও পাঠানো যায় না।
রাজশাহী বিভাগীয় এলপিজি গ্যাস পরিবেশক সমিতির সহসভাপতি শেখ মোহাম্মদ আবদুল হালিম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাম ১ জানুয়ারি থেকে সিলিন্ডারপ্রতি ২০০ টাকা বাড়িয়েছে। দাম বাড়ানোর কারণে ভোক্তাদের কাছে বেশি দামে তা বিক্রি করতে হচ্ছে।
এলপিজি গ্যাস পরিবেশক সমিতির বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক বলেন, বগুড়া আঞ্চলিক ডিপো থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৪ জেলায় সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহ হতো। ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট সিলিন্ডার বিস্ফোরণের অজুহাতে বিনা কারণে বগুড়া ডিপো বন্ধ ঘোষণা করেছে বিপিসি। এখন উত্তরাঞ্চলের ৭৫০ জন ডিলারকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডারে সীমিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ দ্বিগুণ বৃদ্ধির সঙ্গে দালালদের দৌরাত্ম্যে অসহায় ডিলাররা। তা ছাড়া পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার বাতিল না হওয়ায় অনেক সিলিন্ডারের ভালভ নষ্ট হয়ে গ্যাস বেরিয়ে যাচ্ছে। এতে বিপিসির সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধ রেখেছেন ডিলাররা।
