প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, অপরাধীর কোনো দল নেই, তার পরিচয় কেবলই অপরাধী। সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তার বিচার হবেই। প্রকৃত আসামিরা যাতে সাজা পায় এবং নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সজাগ রয়েছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আমরা বিচার বিভাগে নানামুখী সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছি। দেশের বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে এবং প্রভাবমুক্ত থেকে বিচারকার্য পরিচালনা করছে।
গতকাল বুধবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে সরকারি সফরে ইতালিতে অবস্থান করায় তার প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা, সিলেটের চাঞ্চল্যকর শিশু রাজন ও খুলনার শিশু রাকিব হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির কথা তুলে ধরে বলেন, এসব হত্যাকাণ্ড শুধু আলোচিত ঘটনাই নয়, তা মানুষের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়েরই নামান্তর। কিন্তু আমরা বিচার বিভাগের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে এসব মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছি।
২০৩০ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৪তম অর্থনীতি হবে উল্লেখ করে সংসদ নেতা জানান, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছি। বর্তমানে ১০টি বৃহত্ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। এর মধ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী ও রামপাল কয়লা বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে টানেল নির্মাণ, হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণসহ ইত্যাদি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
সাম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের গৃহীত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমান্বয়ে উন্নতি হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, রাজনৈতিক স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দরকার। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। তিনি বলেন, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা এশিয়া প্যাসেফিক অঞ্চলে সর্বোচ্চ।
সরকারি দলের অপর সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে সহজ উপায়ে সরকারের সেবাসমূহ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে এবং প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বহুবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের প্রশ্নের লিখিত জবাবে সংসদ নেতা জানান, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সুদূরপ্রসারি কার্যক্রম ও গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বিগত ১০ বছরে আমরা সর্বক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।
