হালাল-হারাম জানা ও মেনে চলা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫০

মানুষের চলাফেরা, আচার-আচরণ, পারস্পরিক লেনদেন সব ক্ষেত্রেই ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। মানুষ দাসত্ব করবে একমাত্র আল্লাহর। আর এই দাসত্ব ও ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে, হালাল উপায়ে উপার্জন করা এবং যাবতীয় হারাম থেকে বেঁচে থাকা। আগে আমাদেরকে জানতে হবে কোন কাজটি করা জায়েজ এবং কোন কাজটি করা নাজায়েজ; কোন বস্তুগুলো আল্লাহ আমাদের জন্য হালাল করেছেন এবং কোন বস্তুগুলো হারাম করেছেন, কোন ধরনের উপার্জন আমাদের জন্য বৈধ এবং কোন ধরনের উপার্জন বৈধ নয়; ইসলামের এই ন্যূনতম জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরয।

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হচ্ছে—হালাল ও পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করা। মুসলিম শরিফের এক বর্ণনায় হযরত আবু হুরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, নবি করিম সা. বলেন—আল্লাহ নিজে পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র বস্তুকেই গ্রহণ করেন। আল্লাহ তার রসুলদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন, মুমিন বান্দাদেরকেও সে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন—হে রসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং নেক কাজ করো। অনুরূপভাবে তিনি মুমিনদেরকে বলেছেন, হে মুমিনগণ! আমার দেওয়া পবিত্র খাবার থেকে আহার করো। এরপর নবি করিম সা. এমন এক ব্যক্তি প্রসঙ্গে বললেন, যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ধূলি-মলিন অবস্থায় আসমানের দিকে দুই হাত প্রসারিত করে বলছিল—হে আল্লাহ! হে আল্লাহ! অথচ তার খাদ্য-পানীয়, লেবাস-পোশাক সবকিছুই ছিল হারাম। অতএব, তোমরা বলো—তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে!

ইসলাম বলেছে—‘হালাল রুজি উপার্জন করা, অন্য ফরয ইবাদতের মতো একটি ইবাদত।’ মহান আল্লাহ এ পৃথিবীতে জীবন যাপন করার জন্য আমাদের অজস্র পরিমাণ সম্পদ দিয়েছেন। এই সম্পদ দুইভাবে উপার্জন করা যায়। এক. হালাল পদ্ধতিতে। দুই. হারাম পন্থায়। হারাম পন্থায় সম্পদ উপার্জন করলে হাশরের ময়দানে আল্লাহর কঠোর জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে। তিরমিযি শরিফের এক বর্ণনায় এসেছে, নবি করিম সা. বলেন—‘কিয়ামতের দিন চারটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বান্দা এক কদমও আগে বাড়তে পারবে না। চারটি বিষয়ের একটি হচ্ছে—সম্পদ কীভাবে উপার্জন করেছে এবং কীভাবে তা ব্যয় করেছে।’

হালাল রুজি মানুষের আত্মাকে আলোকিত করে এবং দেহকে সুস্থ রাখে। হালাল রুজি অল্প হলেও তাতে বরকত বেশি। পক্ষান্তরে হারাম রিজিক তা যত বেশিই হোক, তাতে কোনো তৃপ্তি নেই, বরকত নেই। যেসব বস্তুতে বান্দার জন্য কল্যাণ ও উপকার নিহিত রয়েছে আল্লাহ যেসব বস্তুকেই কেবল বান্দার জন্য বৈধ করেছেন। যেমন দুধ হালাল পানীয়। পক্ষান্তরে মদ হারাম।

নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যবস্তুকে আল্লাহ যেমন হারাম করেছেন। তেমনি যেসব আচরণ মানুষের মানসম্মান নষ্ট করে সমাজে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে, পরস্পর বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, সমাজে অশান্তি আনে, মানুষকে গোনাহের দিকে ধাবিত করে সেসব আচরণকেও আল্লাহ হারাম করেছেন। যেমন—মিথ্যা বলা, চোগলখোরি করা, পরনিন্দা করা, কারো দোষ চর্চা করা, গালি দেওয়া, ঝগড়া করা, প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া, মা-বাবার নাফরমানি করা, দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মাল গুদামজাত করা, অন্যের মাল আত্মসাত্ করা—এসব আচরণ সম্পূর্ণরূপে হারাম। তাই আগে আমাদেরকে ইসলামের হালাল-হারামের বিধান জানতে হবে, পাশাপাশি কোন কোন বস্তু আমাদের জন্য খাওয়া ও পান করা বৈধ বা বৈধ নয়, কোন ধরনের আচরণ আমাদের জন্য শুদ্ধ বা কী আচরণ আমরা করতে পারব না—এর বিস্তর জ্ঞান আমাদের অর্জন করতে হবে। এরপর সে অনুযায়ী আমাদের জীবন পরিচালনা করতে হবে।

—লেখক : ধর্মীয় আলোচক, উপস্থাপক। খতিব, জাজিরা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা