৩০ বছর ধরে অচল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের মাধ্যমে রাকসু সচলের দাবি জানিয়ে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পর রাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রথম দিকে রাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন তোড়জোড় দেখালেও এখন কবে নির্বাচন হবে এ নিয়ে তারা কার্যত চুপ।
এদিকে প্রায় বছরব্যাপী চলেছে রাকসু সংলাপ। ফলে আদৌ নির্বাচন হবে কি না এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনগুলো এখনো ‘ধোঁয়াশা’য়। সংলাপের নামে বছর পার হলেও এখন আর কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ছে না। ফলে নির্বাচন নিয়ে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল তা সংলাপেই শেষ । সংলাপের পর প্রশাসন বলছে, নির্বাচনের মতো সুষ্ঠু পরিবেশ ক্যাম্পাসে নেই।
তবে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের অভিযোগ, বর্তমানে রাবি ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রশাসন রাকসু সংলাপের মাধ্যমে মূলত কালক্ষেপন করেছে। সত্যিকার অর্থে প্রশাসন রাকসু চায় না। যে প্রক্রিয়ায় প্রশাসন নির্বাচন আয়োজনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তাতে আদৌ নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হত কি না তারা সন্দিহান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রথম রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৬-৫৭ মেয়াদে। ঐ সময় এর নাম ছিল রাজশাহী ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (রাসু)। মাঝে আইয়ুব খানের আমলে কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ১৯৬২ সালে রাকসু নামে পুনরায় যাত্রা শুরু করে। এখন পর্যন্ত রাকসুর ১৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ১৯৮৯-৯০ মেয়াদে। এছাড়া ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত কোনো নির্বাচন হয়নি। পরে সামরিক শাসনে ১৯৭৫ থেকে ১৯৮০ এবং ১৯৮১ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত বন্ধ ছিল রাকসু নির্বাচন।
রাকসু সংলাপ কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত বছর ৭ ফেব্রুয়ারি ছাত্র ফেডারেশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় রাকসু সংলাপ। ৬ মাস ছাত্র রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী-সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সংলাপ শেষে ৪ জুলাই আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে আলোচনা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন দাবি সংলাপ কমিটির কাছে তুলে ধরেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, রাকসু নির্বাচন নিয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি প্রক্রিয়াধীন বলে প্রশাসন জানিয়েছেন। ক্যাম্পাসে নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। এখনই রাকসু নির্বাচনের উপযুক্ত সময়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন কার্যক্রম করছে না জানি না। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তপশিল ঘোষণার দাবি জানাব।
রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর বলেন, রাকসু কার্যকর না থাকায় শিক্ষার্থীরা অধিকারের কথা বলতে পারছে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে রাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংলাপ আয়োজনের পর ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত ও তপশিল ঘোষণার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করি। কিন্তু প্রশাসন ‘অস্থিতিশীল পরিবেশে’র কথা বলে টালবাহানা শুরু করেছে। সত্যিকার অর্থে প্রশাসন রাকসু চায় না। কারণ এখন তারা সব সিদ্ধান্ত এককভাবে নিচ্ছে। রাকসু সচল থাকলে তা পারবে না। রাকসু নির্বাচনের দাবিতে আমরা ফের আন্দোলন শুরু করব।
রাবি ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন বলেন, রাকসু সংলাপ কমিটির এক বছরেও নির্বাচনের পদক্ষেপ দেখছি না। কমিটি সংলাপের দীর্ঘসূত্রতার কারণ জানাতে পারেনি। তিনি দ্রুত তপশিল ঘোষণা করে প্রাণচঞ্চল ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস বিনির্মাণের দাবি জানান।
রাকসু সংলাপ কমিটির আহ্বায়ক ও প্রক্টর অধ্যাপক লুত্ফর রহমান বলেন, রাকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রশাসন সংলাপ কমিটি করে। ক্রিয়াশীল সংগঠনগুলোর আলোচনায় বুঝেছি, সবাই রাকসু নির্বাচন চায়। তবে হল প্রাধ্যক্ষগণ আবাসিক হলে নির্বাচনের পরিবেশ নেই বলে মত দেন। ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান নেই। শিগিগরই হলগুলোতে সংলাপ শুরু করব।
