g শফিকুর রহমান রয়েল
ভালো খবরের যেন আকাল। আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমগুলো ভেনেজুয়েলা সম্পর্কে ইতিবাচক কোনো খবরই যেন খুঁজে পায়নি— করুণ দৃশ্য আর কেবল মারধর। অথচ, খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, এ দেশটিই কি না ছিল দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে গণতান্ত্রিক ও সম্পদশালী রাষ্ট্রগুলোর একটি। আবার তারাই এখন জনশ্রুত ব্যর্থতা এবং অদ্ভূতভাবে আদর্শগত বিতর্কের উপকরণে রূপ নিয়েছে। ভেনেজুয়েলার তাত্ত্বিক ‘যন্ত্র’ এখন বিশ্বব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার খোরাক।
বিস্তৃত পরিসরের এবং বিশৃঙ্খল জনসমাবেশ ও আন্দোলন, ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ, পরিবর্তিত ব্যবস্থাপন, বেসরকারি খাত ও বিদেশি বিনিয়োগের ওপর লাগামহীন প্রতিকূলতা মিলে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে ভেনেজুয়েলায়। কিছু বিষয়ে যুদ্ধংদেহি অবস্থান হুগো শ্যাভেজের নীতিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, ঠিক তেমনি তার উত্তরসূরি নিকোলাস মাদুরোর জন্যও খুব ভালো কিছু বয়ে আনতে পারেনি। কিন্তু সব ভালো প্রচারণার মতোই শ্যাভেজ ও মাদুরো শাসনামলের কিছু কিছু বিষয় স্পষ্ট হওয়ার বদলে অস্পষ্ট থেকেছে বেশি। মাদুরোর তাত্ত্বিক সমাজতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করাটা কিন্তু আন্দোলনের পেছনে চালকের ভূমিকায় থাকেনি।
ভেনেজুয়েলা সম্পর্কে যে কোনো সমালোচনাতেই দেশের গতিশীলতার বিষয়টিকে সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিরোধীদের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা না করে দেশকে স্বীকৃত ডান-বাম রাজনৈতিক সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। সত্যি বলতে গেলে ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রের পতন বেশ কিছু বছর আগেই হয়ে গিয়েছিল। কাগজে-কলমে যা-ই দেখানো হোক, নির্বাচনের প্রকৃত পরিস্থিতি জানান দিচ্ছিল, প্রতি পাঁচ জন ভেনেজুয়েলানের চার জনই মাদুরোর পতন দেখতে চাচ্ছিল। ব্যাপক কারচুপির পর পছন্দ বেছে নেয়ার রাস্তাগুলো ক্রমশ আরো বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত যেসব দুর্বৃত্তের কবলে পড়েছে দেশ, তাতে করে দেশের খনিজসম্পদ লুণ্ঠন আর তাদের আখের গোছান ছাড়া কিছুই সম্ভব হবে না।
মাদুরো কেবলমাত্র সমাজতন্ত্র সম্পর্কে বাগাড়ম্বপূর্ণ কথাবার্তা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছিলেন। কিন্তু তার স্বেচ্ছাচারী সরকার শ্রমিকদের জন্য স্বর্গ নির্মাণের বদলে চুরির রাজ্য তৈরি করে যাচ্ছিলেন। বিংশ শতাব্দীর ল্যাপিটন আমেরিকান ধ্রুপদী সমাজতন্ত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলতেন, ‘আমলাতান্ত্রিক স্বৈরাচারী সরকার’। যেখানে সব বিষয়ই উচ্চ প্রতিষ্ঠানিকৃত ব্যাপার।
একটা দেশের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে মজুতদারি ঠেকানো যায় না, এ কথাটি এই যুগে অন্তত কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। অথচ কালোবাজারে ঠিকই চড়াদামে মিলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। বর্তমান ভেনেজুয়েলা চোরাকারবারি ও মাদক পাচারকারীদের স্বর্গরাজ্য। এখান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে কোকেন, সোনা , হীরা, অস্ত্র ও যৌনকর্মী পাচার হয়। হুগো শ্যাভেজের ভেনেজুয়েলাকে এসবও দেখতে হচ্ছে এবং হজম করতে হচ্ছে। সমাজতন্ত্র হটিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুয়াইডো এ বছরের সংসদ নির্বাচন জিতে সরকার গঠনের জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে একা সরকার গঠন করা তার দলের জন্য খুব কঠিন হবে। অবশ্য তিনি এরইমধ্যে একগাদা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিয়েছেন, যেগুলোর সারমর্ম হচ্ছে দেশের অর্থনীতির হারানো সম্মান যে কোনোভাবেই তিনি ফিরিয়ে আনবেন, যদি তিনি ক্ষমতায় যেতে পারেন।
—ফরেন অ্যাফেয়ার্স অনুসরণে। ছবি: ইন্টানেট
