/ কাজী সুলতানুল আরেফিন
—মোবাইল রেখে দিচ্ছি! তোমার সাথে আর কথা বলব না।
—কেন কী হলো?’
—সবাই ‘জানু’ বলে, আর তুমি বলছ ‘আলু’? এর আগেও এমন করেছ!
—‘জানু’ বলতে গিয়ে মুখ ফসকে ‘আলু’ বলে ফেলেছি! তাই বলে এত অভিমান করতে হবে?
—কেন, আমি ‘আলু’ হতে যাব কেন? তোমার মুখ দিয়ে ‘জানু’র বদলে ‘আলু’ আসে কেন?
—মুখ দিয়ে ‘আলু’ কি আর এমনি এমনি আসে? রাত-দিন আলুর সাথেই বসবাস!
—মানে?
—তুমি কি আলুর কদর জানো না? এ বীর বাঙালির কি আলু ছাড়া একদিনও চলতে পারে? সব তরকারির সাথেই আমাদের আলু লাগে। তাহলে ভালোবাসার উদাহরণ হিসেবে এই আলুর নাম টানলে দোষ কোথায়?
—তাই বলে ‘গোল আলু’?
—আমি ব্যাচেলর। মেসে থাকি। সব সময় আলু দিয়েই চালিয়ে দিতে হয়। তাই মাথায় সব সময় ‘আলু’ ঘুরপাক খায়।
—খোলাসা করে বলো।
—সকালে আলু দিয়ে ভর্তা করে খাই। দুপুরে আলু ভেজে আর সিদ্ধ করে খাই। রাতে আলু রান্না করে সাথে আলুর ডাল খাই! আলু আমার জান। তাই তোমাকে ‘জানু’র বদলে ‘আলু’ বলেছি।
—তার মানে আমাকেও আলুর মতো একবার ভর্তা বানাবে, ভেজে নিবে, সিদ্ধ করবে, রান্না করবে, ডাল করবে!
—আরে না! বলতে চেয়েছি, রাত-দিন যেমন আলু দিয়ে চালিয়ে দিতে পারি। তেমনি রাত-দিন তোমাকে দিয়েই আমার ভালোবাসা চালিয়ে যাব।
—ওহ! আগে বলবে তো।
—এবার বুঝতে পেরেছ আমার ‘গোলআলু’!
—বুঝেছি, বুঝেছি। আমাকে ‘আলু’ বলেই ডেকো!
— ওরে আমার ভালোবাসার ‘গোলআলু’!
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী।
