দাপুটে ভারতের সামনে বাংলাদেশের শিরোপা-স্বপ্ন

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:২৫

কাওসার মুজিব অপূর্ব

পুরোনো ইতিহাস, সাম্প্রতিক ফর্ম, পরিসংখ্যান কিংবা মুখোমুখি লড়াই— কোনো দিক থেকেই অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে ভারতের সঙ্গে তুলনা হয় না বাংলাদেশের। ভারত যেখানে চার বার যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে ফেলেছে, সেখানে বাংলাদেশ এই প্রথম আসরটির ফাইনালে উঠে তাদের প্রতিপক্ষ হলো। সঙ্গত কারণেই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে ভারত।

তারপরও আজ রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রমের ভারতের প্রিয়াম গার্গের সঙ্গে যখন ফাইনালের টস করতে নামবেন বাংলাদেশের আকবর আলী, তখন আর কোনো হিসাব-নিকাশের অবকাশ থাকবে না। কারণ এ ম্যাচে বাংলাদেশ দলের ‘হারানোর ভয়’ আছে সামান্যই।

তবে এটা ঠিক যে, আক্ষরিক অর্থেই চলতি বিশ্বকাপের সেরা দুই দল হলো বাংলাদেশ ও ভারত। উভয়েই গ্রুপ পর্বে বড় বাধার মুখোমুখি হওয়া ছাড়াই চলে এসেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে। উঠে সেমিফাইনালে। আর ৭৪ রানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ চারের টিকেট পায় ভারত। সেমিফাইনালেও বাংলাদেশের জয়টা ছিল সহজ। মাহমুদুল হাসান জয়ের দারুণ এক সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ডকে ছয় উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে যায় আকবর আলীর দল। আর ভারত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ১০ উইকেটে হারিয়ে নিশ্চিত করে আরেকটি ফাইনাল।

ভারতের বিপক্ষে যুব দলের সাম্প্রতিক ফর্ম অবশ্য আশাবাদী করবে না আকবরদের। কারণ সর্বশেষ এশিয়া কাপের ফাইনালে এই ভারতকে ১০৬ রানে অলআউট করার পরও শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় যুব সিরিজের ফাইনালেও বাংলাদেশকে হারায় ভারত। ম্যাচ দুটি হয় গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে। তবে ফাইনালের মতো ম্যাচের আগে অতীত-পরিসংখ্যানের গুরুত্ব খুবই সামান্য।

আজ ফাইনালের ফলাফল যাই হোক না কেন যুব বিশ্বকাপের এই বাংলাদেশ দলটা এরই মধ্যে নিজেদের নাম লিখিয়ে ফেলেছে ইতিহাসের পাতায়। মুশফিকুর রহিমদের দলটাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন থাকলেও তারা ছোটোদের বিশ্বকাপে বলার মতো সাফল্য পায়নি। আর দেশের মাটিতে ২০১৬ সালের যুব বিশ্বকাপে মেহেদী হাসানের মিরাজের দলের যাত্রা থেমেছিল সেমিফাইনালে। তাই শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে এ ম্যাচের ‘ফলাফল’ গুরুত্ব পাবে সামান্যই।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই বিশ্বকাপের অবদান কম নয়। সময়ের অন্যতম সেরা তিন অধিনায়ক বিরাট কোহলি, ইয়ন মরগ্যান ও কেন উইলিয়ামস— তিন জনই এই যুব বিশ্বকাপ খেলে উঠে এসেছেন। এছাড়া ব্রায়ান লারা, যুবরাজ সিং, ক্রিস গেইল, স্টিভেন স্মিথ কিংবা বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম বা মেহেদি হাসান মিরাজরা এই বিশ্বকাপে খেলেই বিখ্যাত হয়েছেন। আশা করা যায় ফাইনালের ফলাফলের বাইরেও সে পথ রচনা করবেন দুদলের কেউ না কেউ।