রাজধানীর ডেমরায় স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে সানজিদা আক্তার শান্তা (২২) নামের এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শান্তার স্বামীর দাবি, তার ওপর অভিমান করে শান্তা নিজেই গলায় ফাঁস দিয়েছে। গতকাল শনিবার বিকাল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যালের চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে শান্তার স্বজনদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য শান্তাকে নির্যাতন করতেন তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ। কিছুদিন আগে ফ্ল্যাট কেনার জন্য শ্বশুরের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা নেন আজাদ। সেই টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট না কিনে ব্যবসায় লাগিয়েছেন বলে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানিয়েছেন। কিন্তু ব্যবসার বিষয়েও পরিষ্কার কিছু না বলায় স্ত্রীর সঙ্গে আজাদের সম্পর্ক আরো খারাপ হতে থাকে। প্রতিদিনই ঝগড়া হতো।
শান্তার মৃত্যুর বিষয়ে ঢামেকে তার স্বামী বেসরকারি কোম্পানির চাকরিজীবী আজাদ বলেন, সকালে মেয়েকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আমি অফিসে চলে যাই। দুপুরে শান্তা নিজেই আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, সে গলায় ফাঁস দিতে যাচ্ছে। শান্তার ফোন পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে আমি বাসায় এসে দেখি রুমের দরজা বন্ধ। দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পাই শান্তাকে। এ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতাল ও পরে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। যৌতুকের অভিযোগ অস্বীকার করে আজাদ বলেন, সব পরিবারেই খুটখাট হয়ে থাকে। আমাদেরও তেমন হয়েছে। ২৪ লাখ টাকা শ্বশুর ফ্ল্যাট কেনার জন্য তার মেয়েকে দিয়েছেন। সেই টাকা রয়েছে। সুবিধামতো না পাওয়ায় কেনা হয়নি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই আব্দুল খান জানান, নিহতের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মাসুমপুর গ্রাম। বর্তমানে পরিবার নিয়ে ডেমরার হাজীনগর ইমরান হোসেনের বাড়ির চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকতেন তিনি।
এ দিকে স্বামীকে ফোন করে ফাঁস দেওয়ার কথা জানানোর পর শান্তার পরিবারের সদস্যরা ডেমরা থানা পুলিশের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলেও কোনো পুলিশ সদস্য সেখানে যাননি। এমনকি ওসি তাদের ফোন পর্যন্ত রিসিভ করেননি। একজন কনস্টেবল ফোন রিসিভ করে বলেন, এটা স্যারের ফোন, এখন কথা বলা যাবে না, আপনি সন্ধ্যার পর ফোন করেন। যদিও সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সদস্যরা। ততক্ষণে শান্তার মৃত্যু হয়েছে।
