মির্জাপুরে বিএনপি ও ছাত্রদলের ১০ নেতাকর্মী গ্রেফতার, এলাকায় তীব্র আতংক

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:২০

৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিএনপি ও ছাত্রদলের ১০ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় বিরাজ করছে তীব্র আতংক। আজ রবিবার বিএনপি নেতা ও পৌরসভার কাউন্সিলর মো. আলী আজম সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চত করে বলেছেন, পুলিশের গ্রেফতারের কারণে আমরা এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা, কর্মীসভা ও পোস্টারও লাগাতে পারছি না।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে জামুর্কি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন তালুকদার (২২), ভাওড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মেম্বার মো. লিটন মাহমুদ (৪৫), ভাওড়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়াড বিএনপির সভাপতি আব্দুল খালেক (৪২), তরফফুর ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাদের সিকদার (৪৫), গোড়াই ইউনিয়নের বিএনপির নেতা জহিরুল ইসলাম (৩৭), পৌরসভার বটতল এলাকার ছাত্রদলের নেতা ইবাদুল হক (২২), গোড়াইল গ্রামের ছাত্রদলের কর্মী রাসেল (১৯), সোহাগ (২০) সহ ১০ জন।

তিনি আারও অভিযোগ করেন, 'পুলিশের গায়েবী, নাশকতা ও পরিকল্পনাকারী মিথ্যা মামলায় বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কর্মী ও নেতা সংকটসহ নানা জটিলতায় পড়েছে মির্জাপুর উপজেলা বিএনপি। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের জন্য বাড়ি বাড়ি তল্লাসি করছে বলে তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। 

গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন মামলায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন পুলিশের মিথ্যা ও সাজানো মামলায় এখন আমরা এলাকা ছাড়া। পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে নেতাকর্মী রাস্তায় বের হতে পারছে না। এমনকি ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভোট চাইতে পারছে না।

জামুর্কি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মো. মিনহাজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত শুক্র, শনি ও আজ রবিবার মির্জাপুর, ভাওড়া, জামুর্কি, ওয়ার্শি, আজগানা, তরফপুর ও গোড়াইসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর পক্ষে গণসংযোগ করার সময় পুলিশ মিথ্যা অভিযোগে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে।

এ ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপির প্রার্থী ও মির্জাপুর উপজেলা সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, '৩০ শে ডিসেম্বর নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে অন্যায়ভাবে বিএনপির নেতা কর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠাচ্ছে। পুলিশ তাদের পোস্টার লাগাতে দিচ্ছে না। সভা সমাবেশও করতে দিচ্ছে না।' তিনি গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

আরও পড়ুনঃ কেন্দুয়ায় বিএনপির ১১ নেতাকর্মী গ্রেফতার

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, 'বিএনপির কোন নেতাকর্মীদের হয়রানী ও উদ্যেশ্যমূলকভাবে গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে না। তাদের নামে পূর্বের মামলা ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরই গ্রেফতার করা হয়েছে।'

ইত্তেফাক/নূহু