বছরে উত্পাদন ৮০ লাখ কেজি
গোলাম মোস্তফা আনছারী, স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীর পাশাপাশি রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় চা চাষ শুরু হয়েছে। এসব এলাকায় চা চাষের আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার একর। রংপুর জেলার তারাগঞ্জ ও নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলাসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত ও উঁচু জমিতে চা-চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।
বাংলাদেশ স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল হক খোকন বলেন, রংপুর বিভাগের রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও লালমনিরহাটে চা চাষ সম্প্রসারণ হচ্ছে। এসব এলাকার আবাদি জমির পরিমাণ ৬ হাজার একর। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র চা বাগান আটটি আর মাঝারি ১২টি, এতে ৩ হাজার চাষি চা চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। কারখানা রয়েছে ১৩টি। প্রতি বছর উত্পাদিত চায়ের পরিমাণ ৮০ লাখ কেজি। তিনি আরো বলেন, কাঁচা চা-পাতার মূল্য নির্ধারণ হয় চলতি বাজারের ওপর। ফলে চা বাগান মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি সরকারকে সরাসরি চা বাগান মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করার আহ্বান জানান।
সিনহা অ্যাগ্রো বেইজড ইন্ডাস্ট্রিজের টি-গার্ডেনের ম্যানেজার রিফাত হোসেন দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালের জুন মাসে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে চা উত্পাদন শুরু করে। এই উপজেলায় চা বোর্ডে কোনো অফিস নেই। ফলে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত চা বোর্ডের অফিসে যোগাযোগ করি। তারাগঞ্জের বালাপাড়া এবং কিশোরগঞ্জের বাহাগিলি ও দরাকুঠির এলাকায় যুবকরা এখন চা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বলেন,‘রংপুর অ্যাগ্রোবেজ এলাকায় যে চায়ের চাষ শুরু হয়েছে তার গুণগতমান অত্যন্ত ভালো। ভারতের দার্জিলিংয়ের চায়ের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। চা চাষ আরো সম্প্রসারণ করা গেলে কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচন হবে।
রংপুর অঞ্চল বিভাগ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার মধ্যে রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় চা চাষ হচ্ছে। চায়ের ফলনও বাম্পার হয়েছে। এ অঞ্চলের যে জমিতে ভালো ফসল ফলে না ঐ জমিতে চা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পরিত্যক্ত জমিতে চা-চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন চা চাষিরা। এই তিন জেলায় সরকারি হিসেবে প্রায় ৪০ একর জমিতে চা-চাষ হচ্ছে। চা চাষের প্রসারতা বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, চা চাষের কারণে এ অঞ্চলের তামাক চাষ প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমি থেকে ১২ হাজার হেক্টরে নেমে এসেছে।
