শীতের পিঠা ও আমাদের হারানো ঐতিহ্য

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫৫

শীতের পিঠা বাঙালির লোক-ঐতিহ্যের হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস। একসময় নানা রকম পিঠের রকমারি ঘ্রাণে গ্রামবাংলার কুটির থেকে শুরু করে অট্টালিকার চার পাশ পর্যন্ত মৌ মৌ করত। ধনী-গরিব সবাই সুস্বাদু উপাদেয় পিঠার আমেজে শীতযাপন করত। হেমন্ত আসতে না আসতেই বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হতো নবান্ন। নবান্ন নতুন চাল, খেজুরের গুড় আর রস পিঠা তৈরির পূর্ণতা দান  করত। খেজুরের রস দ্বারা ভাপা, পুলি, দুধচিতই, পায়েসের জুড়ি ছিল না। অনেকে রাতের ঠান্ডা ভাপা শীতের অনুরণনে খেজুর রসে ভিজিয়ে খেতে আনন্দ পেত। কিশোর-কিশোরীরা  মামার বাড়িতে বেড়ানো উপভোগ করত বাহারি রকম পিঠার বাহারি স্বাদে।

শীতকালে হরেক রকম পিঠার আপ্যায়নে চলত মেহমানদের আনাগোনা। শীতকালের ঐতিহ্যকে উপস্থাপন করা শত রকমের পিঠের মধ্যে চাপড়ি, পুলি, পাটিসাপটা, মালপোয়া, ঝালপোয়া, মেরা, ঝিনুক, মালাই ইত্যাদি। কিন্তু গ্রামীণ মানুষের নান্দনিকতার এ উত্স দিন দিন বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে। আগের মতো এখন আর শীতকালে গ্রামের ৮-১০ জন মহিলাকে একসঙ্গে বসে পিঠা বানাতে দেখা যায় না। নান্দনিকতার উত্স এবং কৌতূহলতার উত্স হিসেবে পিঠার ধুম আর গ্রামাঞ্চলে পরিলক্ষিত হয় না। যার দরুন সদ্যবিয়ে করা জামাইও পিঠার স্বাদ থেকে বঞ্চিত। এখন প্রতিটি পাড়া-মহল্লা পিঠার ম-ম ঘ্রাণে আর ভরে ওঠে না। পিঠার স্বাদ ভুলে আমরা নুডলস, সেমাইয়ের স্বাদ নিতে শিখেছি। মডার্ন সেজে এখন মেয়ের জামাইকে, মেহমানকে ফাস্টফুড খাওয়ানো হয়। আপন সংস্কৃতিকে অগ্রাহ্য করে পরের সংস্কৃতিকে গ্রাহ্য করার মানসিকতাই এর মূল কারণ। বাঙালি যে পরের ধার করা সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে নিজের হাজারো চিরায়ত সংস্কৃতিকে বিলুপ্ত করে দিচ্ছে, এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই।

সুপ্রাচীনকাল থেকেই আমরা ধনে, মানে, সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। প্রতিটি বাঙালি তার ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হলে, অন্যের সংস্কৃতিকে অনুকরণ না করে নিজের সংস্কৃতিকে মনেপ্রাণে লালন করলে, সর্বোপরি বিভিন্ন ধরনের পিঠা উত্সবের মধ্য দিয়ে আমাদের সুপ্রাচীনকালের ঐতিহ্যকে ফিরে পাওয়া সম্ভব।

n লেখক :শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়