মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসীরাই ক্ষমতায় ও বিরোধী দলে থাকবে

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:৪৯

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, দেশদ্রোহী, জাতিদ্রোহী, অগ্নিসন্ত্রাসী, জঙ্গিদের দল বিএনপি-জামায়াতকে দেশের জনগণ আর কোনো দিন মেনে নেবে না। ভবিষ্যতে সরকারি দল ও বিরোধী দলেও থাকবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি—পাকিস্তানপন্থিদের এদেশের জনগণ আর বিশ্বাস করবে না। ১৯টি ক্যুর মাধ্যমে হাজার হাজার সামরিক-বেসামরিক মানুষকে হত্যাকারী অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারও দাবি করেন তারা।

প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার  সভাপতিত্বে গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সরকারি দলের অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, মকবুল হোসেন, আরমা দত্ত, বেগম শাহীন আক্তার, কবিরুল হক মুক্তি, মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান ও জাতীয় পার্টির (এ) পনির উদ্দিন আহমেদ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এতিমের টাকা আত্মসাত্কারী খালেদা জিয়া এখন আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে। তিনি ক্ষমতায় থেকে অসংখ্য মানুষকে হত্যা, আগুণসন্ত্রাস চালিয়ে শত শত নারীকে বিধবা এবং সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছেন। তার জন্য এত মায়াকান্না কেন?

সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মের মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ। গত ১১ বছরে তারই কন্যা শেখ হাসিনা দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সব সূচকেই বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য গতিতে অগ্রযাত্রার চিত্র। আগে মানুষ ভাতের ফ্যান ভিক্ষা করত, সেই চিত্র এখন আর নেই।

জাতীয় পার্টির (এ) পনির উদ্দিন আহমেদ বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রো রেলসহ সরকারের গৃহীত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের চিত্রই পালটে যাবে, দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী হবে।

সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে চোখ বেঁধে দিনের পর দিন নির্যাতন করেছে। আমার স্ত্রী-মা খাবার নিয়ে থানার সামনে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকত, কিন্তু দেখা করতে দেওয়া হয়নি।’

সরকারি দলের মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান বলেন, হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতির মধ্যেই জন্ম বিএনপির। এরা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাসহ পুরো আওয়ামী লীগকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল।

কবিরুল হক মুক্তি বলেন, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি যে দেশেই বিদ্যমান, তারা কখনো সামনের দিকে এগোতে পারে না। ভারতেও সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক শাসনের কারণে দেশটির গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে।

মকবুল হোসেন বলেন, দেশে হাজার হাজার ঋণখেলাপি রয়েছে। তারা দেশের বিপুল অর্থ নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না। কিন্তু দেশের কোনো কৃষক ঋণখেলাপি নেই।

আরমা দত্ত বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি-কুলাঙ্গাররা জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশকে অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত করেছিল। আর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী এই জিয়ার হাতেই তৈরি বিএনপি।