সেরা কোচ
মার্টিন ফ্রেডেরিখ
স্পোর্টস রিপোর্টার
সোনায় মোড়ানো বছরের স্বীকৃতিটা অবশেষে পেলেন দেশসেরা তিরন্দাজ রোমান সানা। ২০১৯ সালে বিশ্ব আর্চারির সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের খেতাব জিতেছেন আনসারের এই আর্চার। গেল বছর বৈশ্বিক ও মহাদেশীয় প্রতিযোগিতাগুলোয় বাংলাদেশের সাফল্যের কারিগর জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডেরিখও পেয়েছেন বিশ্বসেরা কোচের স্বীকৃতি।
গেল বছর মার্চে থাইল্যান্ডে এশিয়া কাপ আর্চারির প্রথম পর্বে রৌপ্যপদক জিতে স্বর্ণখচিত বছরটা শুরু করেন রোমান। এরপর সে সাফল্য বিশ্বকাপেও ধরে রাখেন তিনি। নেদারল্যান্ডসের দেন বস্কে বিশ্বকাপ আর্চারির ব্রোঞ্জ ফাইনালে আর্চারি র্যাংকিংয়ের সেরা পাঁচে থাকা ইতালীয় খেলোয়াড় মাউরো নেসপলিকে হারিয়ে তাম্রপদক তো জেতেনই, প্রথম বাংলাদেশি তিরন্দাজ হিসেবে অলিম্পিকে খেলা নিশ্চিত করেন রোমান সানা।
থাইল্যান্ডে সোনার খুব কাছে গিয়েও রূপা নিয়ে ফেরার আক্ষেপটা ফিলিপাইনে ক্লার্ক সিটিতে ঘোচান দেশসেরা এই আর্চার। এশিয়া কাপ আর্চারির তৃতীয় পর্বের ফাইনালে চীনা আর্চার শি ঝেঙ্কিকে ৭-৩ ব্যবধানে হারান তিনি। এরপর বছর শেষে এসএ গেমস তো পুরো দলকেই দিয়েছে দুই হাত ভরে। সেখানে তিনটি স্বর্ণ জিতে আসরে দশ সোনা জেতা দলকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খুলনার এই আর্চার।
বছর জুড়ে এমন পারফরম্যান্স র্যাঙ্কিংয়েও প্রথমবারের মতো সেরা দশে তুলে আনে রোমানকে। ফলে বর্ষসেরা উদীয়মানের খেতাবটা যে তার ঝুলিতেই যাচ্ছে সেটা অনেকটাই অনুমিত ছিল। অপেক্ষা ছিল কেবল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব আর্চারি এক মাসব্যাপী গণভোট ও বিচারকদের চূড়ান্ত রায়ের পর জানায়, ‘ব্রেক-থ্রু’ ঘরানায় সেরার পুরস্কারটা উঠছে রোমান সানারই হাতে। এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় রোমান ইত্তেফাককে বলেন,‘এটা আমার জন্যে অনেক বড়ো পাওয়া। এ যাবত্কালে আমার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জনই বলব।’
গেল বছরের পারফরম্যান্সের পর এ পুরস্কারটা অনেকটা প্রাপ্যই ছিল রোমান সানার। তবে তিনি নিজে জানালেন, সেরা উদীয়মানের পুরস্কারটা রীতিমতো কল্পনাতীত ছিল তার। তিনি বলেন, ‘পুরস্কারটা যে জিতব সেটা কল্পনাই করতে পারিনি। আমি তো মনোনয়ন পেয়েই সন্তুষ্ট ছিলাম!’
সেরা আর্চারের পুরস্কারটাও উঠতে পারত তার হাতে। তবে গণভোট ও বিচারকদের রায় যায় আর্চার মাইক শ্লোয়েসারের ঝুলিতে। তবে সে পুরস্কারটা না জেতায় মোটেও খেদ নেই তার।
রোমানের ভাষ্য, ‘এতে মোটেও মনঃক্ষুণ্ন হইনি। সে পুরস্কারটা জিতব এমন আশা করিনি মোটেও। সেরা ব্রেক-থ্রু খেলোয়াড় হওয়ার আশাও করিনি। এমন কী এ পুরস্কারটা না জিতলেও আমার মনে কোনো ক্ষোভ থাকত না। আমি যে পুরস্কারটা জিতেছি তা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।’
আসছে জুলাইতেই প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে লড়বেন। সানা জানালেন ‘এ স্বীকৃতি অলিম্পিকে ভালো খেলারও অনুপ্রেরণা যোগাবে, তা তো অবশ্যই। এ পুরস্কারটা অলিম্পিকের আগে বেশ অনুপ্রেরণা দেবে আমাকে। প্রথমবারের মতো খেলতে যাচ্ছি, তাই প্রস্তুতিটাও তেমনভাবেই নিচ্ছি। তবে আমার প্রাথমিক লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনাল। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’
সানার এমন সাফল্যের কারিগর মার্টিন ফ্রেডেরিখও পেয়েছেন স্বীকৃতি। দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরেই দলকে নিয়ে এসেছেন সেরা বিশে। গেল বছর বৈশ্বিক ও মহাদেশীয় আসরে দলের সাফল্যে পুরস্কারস্বরূপ ফ্রেডেরিখ জিতেছেন বর্ষসেরা কোচের খেতাব।
দুজনের এমন সাফল্যের পর চ্যালেঞ্জটা বেড়েছে বেশ, জানালেন আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিবউদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এ স্বীকৃতি অসাধারণ। তবে এর ফলে ভালো খেলার চ্যালেঞ্জটা বেড়ে গেছে বহুগুণে। এখন সেটা সামলাতে হবে দলকে।’
