আরেকটি
ইনিংস হার বাংলাদেশের
স্পোর্টস রিপোর্টার
মাত্র এক রাতের ব্যবধানেই দুটি বিপরীত চিত্র দেখা গেল বাংলাদেশ ক্রিকেটে। রবিবার রাতে যেখানে যুব ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসাল গোটা জাতিকে, সেখানে গতকাল সোমবার সকালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে ইনিংস ও ৪৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারল জাতীয় দল।
বড়ো পরাজয়ের পর অধিনায়ক মুমিনুল হক জানালেন চাইলে শিক্ষাটা ছোটোদের কাছ থেকেও নিতে পারে জাতীয় দল। তিনি ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, ‘জুনিয়র কিংবা সিনিয়র দল নয়, চাইলে সব জায়গা থেকেই শেখা যায়। এখানে আপনার শিখতে পারাটাই হচ্ছে মূল বিষয়। ওরা আমাদের এটা দেখিয়েছে, কীভাবে বড়ো সাফল্য পেতে হয়।’
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করা অনূর্ধ্ব ১৯ দলকে অভিনন্দন জানালেন টেস্ট অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য অনেক বড়ো অর্জন। এটির চেয়ে বড়ো অর্জন এই মুহূর্তে হতে পারে না। ওরা অসাধারণ খেলেছে। ওদের অভিনন্দন জানাতেই হয়।’
মুমিনুল মনে করেন, এই দল থেকে এমন কিছু ক্রিকেটার উঠে আসবেন যারা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বললেন, ‘যারা এই দলটায় খেলেছে, তারা সাফল্যের জন্য খুবই ক্ষুধার্ত ছিল। দুই বছর ধরে দলের সবাই একসঙ্গে ছিল। একজন আরেক জনকে জানা, ভালো বোঝাপড়া, একে অপরের ওপর আস্থা রাখা—এই ব্যাপারগুলো ইতিবাচক ছিল। কাল (ফাইনাল ম্যাচে) যেভাবে একজন আরেক জনকে উত্সাহ দিচ্ছিল, প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল, এসব ভালো ভালো দিক ছিল। আশা করি এই বিশ্বকাপে খেলা ছয়-সাত জন খেলোয়াড় পাব আমরা, যারা বাংলাদেশ দলকে এগিয়ে নেবে ভবিষ্যতে।’
রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশের যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্য কোনো অজুহাত দিতে নারাজ অধিনায়ক। তবে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াতে চান তারা। মুমিনুল বললেন, ‘খুবই হতাশাজনক পারফরম্যান্স। কোনো অজুহাত দেব না। আসলে আমাদের অনেক উন্নতি করতে হবে। আমাদেরকে আমাদের ভুলগুলো শুধরাতে হবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এখনো ৮-৯টি ম্যাচ আছে। আশা করছি আমরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারব।’
টেস্ট চার দিনে শেষ হয়ে গেলেও সদ্যই ফেরা হচ্ছে না মুমিনুল বাহিনীর। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বিকালে দেশে ফিরবে দলটি। এটা ছিল বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় দফার পাকিস্তান সফর। এর আগে প্রথম দফায় তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ।
তৃতীয় দফায় বাংলাদেশ দল পাকিস্তান যাবে আগামী এপ্রিলে। সেবার খেলবে এক ওয়ানডে ও এক টেস্ট। এর আগে অবশ্য দেশেই ব্যস্ত সময় কাটাবে দল। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে পা রাখবে জিম্বাবুয়ে দল। ২২ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের একমাত্র টেস্ট। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি দুই দিনের একটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে দলটি। টেস্ট শেষে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে সফরকারীরা।
স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৮২.৫ ওভারে ২৩৩/১০
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস : ১২২.৫ ওভারে ৪৪৫/১০
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
তামিম এলবিডব্লু ব ইয়াসির ৩৪ ৫৬ ৬ ০
সাইফ বোল্ড ব নাসিম ১৬ ২৫ ৪ ০
শান্ত এলবিডব্লু ব নাসিম ৩৮ ৮৭ ৩ ১
মুমিনুল এলবিডব্লু ব আফ্রিদি ৪১ ৯৩ ৫ ০
তাইজুল এলবিডব্লু ব নাসিম ০ ১ ০ ০
মাহমুদুল্লাহ ক হারিস ব নাসিম ০ ১ ০ ০
মিঠুন বোল্ড ব ইয়াসির ০ ১২ ০ ০
লিটন এলবিডব্লু ব ইয়াসির ২৯ ৫৯ ৪ ১
রুবেল এলবিডব্লু ব আব্বাস ৫ ২৬ ১ ০
জায়েদ ক আসাদ ব ইয়াসির ৩ ৯ ০ ০
এবাদত অপরাজিত ০ ৫ ০ ০
অতিরিক্ত (ও-২) ২
মোট (অলআউট, ৬২.২ ওভার) ১৬৮
উইকেট পতন :
১/৩৯ (সাইফ), ২/৫৩ (তামিম), ৩/১২৪ (শান্ত), ৪/১২৪ (তাইজুল), ৫/১২৪ (মাহমুদুল্লাহ), ৬/১২৬ (মিঠুন), ৭/১৩০ (মোমিনুল), ৮/১৫৬ (রুবেল), ৯/১৬৫ (লিটন), ১০/১৬৮ (আবু জায়েদ)।
পাকিস্তান বোলিং
শাহিন শাহ আফ্রিদি : ১৬-৬-৩৯-১ (ও-১), মোহাম্মদ আব্বাস: ১৭.৪-৬-৩৩-১ (ও-১), নাসিম শাহ : ৮.২-২-২৬-৪, ইয়াসির শাহ : ১৭.২-৩-৫৮-৪, আসাদ শফিক : ৩-০-১২-০।
ফল : পাকিস্তান ইনিংস ও ৪৪ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : নাসিম শাহ (পাকিস্তান)।
সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে পাকিস্তান।
