আতঙ্কে যমুনা পাড়ের মানুষ
আমিনুল ইসলাম হিরু, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) সংবাদদাতা
পূর্ব বগুড়ার বৃহত্ জনপদ যমুনার ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষাকল্পে নির্মিত ‘নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প কাজের’ বিভিন্ন পয়েন্টে ধস এবং ওয়াক ওয়ের (টপ) পাশে বড়ো বড়ো খাদ সৃষ্টি হয়ে প্রকল্পটি বাধার মুখে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে সময় থাকতে ঐ ধস এবং খাদ সংস্কার না করা হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রকল্পটি পুরোটাই ধসে গিয়ে জনপদের জানমালের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে যমুনা পাড়ের মানুষ।
নদী পাড়ের ভুক্তভোগীরা জানান, সংস্কার না হওয়ায় ইতিপূর্বে তালুকদার পাড়ায় তীররক্ষা কাজ ধসে গিয়ে জানমালের ক্ষতি হয়। ঘুঘুমারি গ্রামের শহিদুল ইসলাম, সুমন মিয়া, কালু গাজী জানান, নদীরক্ষা কাজ হওয়াতে আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম, বাপদাদার ভিটেবাড়ি রক্ষা পাবে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ধস নামায় আমরা এখন আর এখানে বসবাস নিরাপদ মনে করছি না।
তিনবার বাড়ি ভাঙনের শিকার চন্দনবাইশার বাসিন্দা অধ্যক্ষ সাদত হোসেন জানান, ইতিপূর্বে কোটি টাকা ব্যয়ে তালুকদার পাড়ায় ২ হাজার মিটার তীররক্ষা কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত না করায় ঐ কাজ ধসে যায়। ভাঙনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ চন্দনবাইশা বাজারের শতাধিক দোকান, কয়েটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যমুনা গর্ভে বিলীন হয়। নদীভাঙন রোধে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রৌহাদহ পয়েন্ট থেকে মথুরাপাড়া পয়েন্ট পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ২ বছর। নির্মাণকাজ সম্পন্ন এবং মেন্টনেন্স পিরিয়ড পার করে গত জুন মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাউবোর কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর করে। হস্তান্তরের সাত মাসেই প্রকল্প কাজের বিভিন্ন পয়েন্টে পিসিং ধসে যায় এবং ওয়াক ওয়ের পাশে গভীর খাদ ও গর্তের সৃষ্টি হয়।
চন্দনবাইশা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন দুলাল জানান, নদীভাঙন থেকে জনপদ নিরাপদ রাখতে বন্যার আগেই সময় থাকতে জরুরি ভিত্তিতে তীররক্ষা কাজ সংস্কার প্রয়োজন।
পাউবো বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, আমরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে বোর্ডে চিঠি দিয়েছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কার কাজ করা হবে।
